বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

সিলেটে আবারও জ্বালানি তেল সংকট

  • প্রকাশের সময় : ২০/০২/২০২২ ০৩:৫৯:৪৮
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
12

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম: ক’দিন যেতে না যেতেই সিলেটে আবারও জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে সিলেটে তেলের তীব্র সংকট দেখা দেয়ার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় বৈঠক করে আন্দোলনের হুমকি দেয়ার ফলে পরে তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়। কিছুদিন স্বাভাবিক থাকার পর আবারও সিলেটে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। তেল সংকটের কারণে দিনে দিনে স্থবির হয়ে পড়ছে এর সাথে জড়িত বিভিন্ন খাতের মানুষের জীবনযাত্রা। এই সংকটের জন্য সংশ্লিষ্টরা রেলের ওয়াগন সংকটকে দায়ী করছেন। এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে এ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, সিলেটে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে সরবরাহ আছে মাত্র ৩ থেকে সোয়া ৩ লক্ষ লিটারের মতো। বর্তমানে যে তেল সরবরাহ হচ্ছে তা সিলেটের চারটি ডিপোর মধ্যে ভাগ করে নেন তারা। এর জন্য কোন কোম্পানীই তাদের গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে পারেন না।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, সিলেটের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল আসে চট্টগ্রাম থেকে। সিলেটে তেল সরবরাহ রেলের ওয়াগন নির্ভর। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ রেল বিভাগের উদাসিনতার কারণে তেলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তাদের দাবী রেল কতৃপক্ষ আন্তরিক হলে এই সংকট অনেকটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

এছাড়া সিলেটের গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাসের সাথে প্রাপ্ত উপজাত কনডেনসেট থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রায় দুই বছর থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে এই এলাকায় জ্বালানী তেল সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

রাষ্ট্রিয় মালিকানাধীন তেল বিপননকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সিলেটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে প্রতি সপ্তাহে ৩ থেকে ৪টি তেলবাহী ওয়াগন আসে। প্রতিটি ওয়াগনে গড়ে ৩ লক্ষ লিটার করে জ্বালানী তেল থাকে। তবে ওয়াগনগুলোর সিডিউলের কারণে কখনো কখনো ওয়াগন আসা বিলম্বিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে ডিজেল ও পেট্টোলের পাশাপাশি অকটেনেরও সংকট রয়েছে। যার কারণে তেলের চাহিদা অনুযায়ী তারা গ্রাহকদের তেল দিতে পারছেন না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে যে কনডেনসেট পাওয়া যায় তা আগে সিলেটের বিভিন্ন প্লান্টেই জ্বালানি তেলে রুপান্তর করা হতো। সরকারি মালিকানীধীন এই প্লান্টগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এখন চট্টগ্রামের বেসরকারি মালিকানাধীন প্লান্টে কনডেনসট থেকে জ্বালানি তেলে রুপান্তর করা হয়। এতে এখানকার সঙ্কট আরও ঘণিভূত হয়েছে।

সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা মনে করেন দেশে তেল সংকট না থাকা সত্বেও কতৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে সরকারের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত করা ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই কৃত্রিমভাবে এই সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় তেল বিপননকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা ওয়েল কোম্পানী সিলেট কার্যালয়ের মার্কেটিং ম্যানেজার সুমিত বড়ুয়া বলেন, রেলের ওয়াগন আসার সিডিউলের কারণে সিলেটে কিছুটা তেল সংকট দেখা দেয়। তবে আজ একটি ওয়াগন সিলেট এসেছে বলেও জানান তিনি।  

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে জ্বালানি তেল সরবরাহ ওয়াগন নির্ভর হওয়ায় আমাদেরকে প্রায়ই এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। তিনি বলেন, সিলেটের গ্যাস ফিল্ড থেকে গত দেড় বছর আগেও তেল পাওয়া যেতো, তখন তেল সংকট ছিলো না। এখন চট্টগ্রাম থেকে আমাদের তেল আসতে হয়, এজন্য আমাদের ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ভৈরব থেকে তেল সরবরাহ করার সুযোগ দিলে এই সংকট কিছুটা নিরোসন সম্ভব।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স