দেলোয়ার হোসেন: একাধিকবার মাদরাসা সুপারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরও সিলেট সদরের মোগলগাঁও ইউনিয়নের আকিলপুর ও মৌলভীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তিনদিন ধরে অস্থিরতা চলছে। এর পিছনে ইন্ধানদতা হিসেবে সৈয়দপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত বুধবার পূর্বঘোষিত সৈয়দপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং চলছিল। মিটিং চলাকালীন সময়ে উত্তেজিত হয়ে সৈয়দপুর গ্রামের আজাদ মিয়া হঠাৎ করে টেবিলে চাপড়ে মারেন। অন্য একজন এর প্রতিবাদ করলে তাকেও গালিগালাজ করেন আজাদ মিয়া। এসময় মৌলভীগাঁও গ্রামের তারই চাচাতো ভাই আবুল খায়ের ওঠে আসলে তাদের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। ঘটনার নিবৃত্ত করতে দুইজনের মাঝখানে আসেন মাদরাসা সুপার হাবিবুর রহমান। এ সময় দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে তার গাঁয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি তাপ্পড় পড়ে যায়।এই অনিচ্ছকৃত ঘটনার জন্য উপস্থিত সবাই তার কাছে ক্ষমা চান।
যার হাত তার গায়ে লাগছে তাকে দিয়েও ক্ষমা চাওয়ানো হয়েছে। এরপর ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকা সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম উপস্থিত হন। তার মাধ্যমেও মাদরাসা সুপারকে সান্তনা দিয়ে সবকিছু বুঝিয়ে বলা হয়। এরপরও তিনি সন্তুষ্ট না হলে শনিবারে অনুষ্ঠিতব্য মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। সমঝোতার পরও মাদরাসা সুপারকে নিয়ে রাতের আধারে বিক্ষোভ করে ও পরদিন মানববন্ধন করে আকিলপুর গ্রামের কিছু লোকজন।
ম্যানেজিং মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা রাকিব আহমেদ জানান, গত বুধবার মাদরাসার উদ্যোগে বার্ষিক জলসা আয়োজনের উদ্দেশ্যে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং চলছিল। মিটিংয়ের প্রায় শেষ পর্যায়ে আর্থিক হিসাব জানতে চান আজাদ মিয়া।
এ সময় মাদরাসার সহ-সুপার শাহজাহান সিরাজ (রাজা) বলেন, মিটিংয়ে ম্যানেজিং কমিটির সবাই উপস্থিত না থাকায় আমি এখন হিসাব দিতে পারব না। যদি থাকত তাইলে আমি হিসাব দিতাম। এখন টাকার প্রয়োজন হলে সবাই বললে দিতে পারব। এ সময় একটি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরি হলে উপস্থিত সবাই তাৎক্ষণিক সমাধান করে ফেলে।
সমাধানের পরও এটাকে ইস্যু করে ঘটনা বড় করার পিছনে অন্য কোন কারণ আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদরাসার বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির আগের কমিটিতে দীর্ঘ ১৮ বছর সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আবদুর রহিম। কিছুদিন আগে এলাকার সবার পরামর্শে তাকে বাদ দিয়ে ফজলু মিয়াকে নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এতে আগের সভাপতি আবদুর রহিম মনক্ষুন্ন হন এবং তিনিসহ তার অনুসারীরা এতে দ্বিমত পোষণ করেন। এছাড়া আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এতদিন মাদরাসা সুপারের কাছে থাকলেও কিছুদিন আগে সহ-সুপার শাহজাহান সিরাজকে (রাজা) দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে মাদরাসা সুপার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। এমনকি তার কাছ থেকে সুবিধাভুগীরা আগের মতো সুযোগ-সুবিধা নিতে পারছে না। এসব কারণেই আমি মনে করি একটি ইস্যু তৈরি করে মীমাংসিত বিষয়কে তারা পরিকল্পিতভাবে বড় করেছে।
মাদরাসা সুপার হাবিবুর রহমান ঐদিন কি ঘটেছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদরাসায় একটা সাধারণ সভা বসছিল। এখানে মাদরাসার কাজ-কর্ম নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছিল। তখন আর্থিক বিষয় নিয়ে মৌলভীরগাঁও গ্রামের আবুল খায়ের হল সুপার শাহজাহান সিরাজের পক্ষ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদের একপর্যায়ে আমার উপর আক্রমণ করে। তাৎক্ষণিক মাফ চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সত্য।
কিন্তু আমাকে যেভাবে অপমান-অপদস্ত করা হয়ছে, এতে আমি কিভাবে মানুষের সামনে মুখ দেখাব? ঐদিন আবুল খায়ের ও ম্যানেজিং কমিটির সবাই মাফ চাওয়ার পরে আকিলপুর গ্রাম এখানে সম্পৃক্ত হল কেমন করে- এমন প্রশ্নে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এখন পাশাপাশি দুইটি গ্রামে আপনার এই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে, এটা কি আপনি ভাল মনে করেন-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কিছুই করার নাই। চেয়ারম্যান প্রাণপণ চেষ্টা করেও পারছেন না।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



