সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

যে আগুনে পুড়ছেন বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের মানুষ

  • প্রকাশের সময় : ০৬/০৩/২০২২ ১১:৫২:৪২
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
26

এনামুল কবীর :: আগুন জ্বলছে বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরবাসীর মনে। বিশেষ করে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা নিরন্তর পুড়ছেনতো পুড়ছেনই। কারণ, দীর্ঘদিন এ আসনে আওয়ামী লীগের কোন সংসদ সদস্য না থাকা। এতে তারা উন্নয়ন বঞ্চনায় রয়েছেন বছরের পর বছর- এমনটাই জানালেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমুহের নেতৃবৃন্দ।

রোববার (৬ মার্চ) বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের মনের সেই আগুন স্ফুলিঙ্গ হয়ে বেরিয়ে এসেছিল।

উপজেলা আ’লীগের সভাপতি পংকি খানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক আমির আলী চেয়ারম্যান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ সুমনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় প্রত্যেক বক্তার বক্তব্যেই ঘুরেফিরে উঠে এসেছে প্রসঙ্গটি।

বিকেল ৩টার দিকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে শুরুর দিকে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এরপর পরিকল্পনামন্ত্রী সভাস্থলে উপস্থিত হলে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় আমাকে নেত্রী বলেছিলেন এই আসন আমি অন্যদের দিয়ে দিয়েছি। এরপর আমার আর বলার কিছু ছিলনা। নেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। কিন্তু এরপর গত প্রায় ১২ বছর ধরে বিশ্বনাথ- ওসমানীনগর উন্নয়ন বঞ্চিত। মূলত: এ আসনে সরকার দলীয় কোন সংসদ সদস্য না থাকায় যখন সারাদেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে, তখন আমরা বঞ্চিত। 

তিনি প্রতিবেশী উপজেলার মানুষ হিসাবে পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে এই আসনের উন্নয়নের দায়িত্বটুকও তিনি পালন করেন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের  সহসভাপতি নাজনিন হোসেন। তিনিও তার বক্তব্যে একই বিষয় তুলে ধরেন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া, বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ উদ্দিন, শাহ আসাদুজ্জামান আসাদ, আসাদুজ্জামান, রামপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ আরও অনেকে।

তাদের সবার বক্তব্যই ছিল নিজেদের দলীয় এমপি না থাকার যন্ত্রণা, কষ্ট আর বেদনার আগুন। সবাই একবাক্যেই বললেন, আগামীতে যেনো এ বঞ্চনা আর না থাকে। আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীকেই তারা জাতীয় সংসদে দেখতে চান। আর সেই সাথে গত প্রায় এক যুগে বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর যে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে তা যেনো নিজ দায়িত্বে পরিকল্পনামন্ত্রী পূরণ করে দেন।

বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরবাসীর মনের আগুন আরও পরিস্কার বুঝিয়ে দিলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খান। 

নিজের বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের উদ্দেশ্যে পরিস্কার বললেন, আপনি প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন, আমরা তার পা ছুঁয়ে অনুরোধ জানিয়েছি যেনো আগামীতে আমাদের দলীয় প্রার্থীকে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়। আমরা আমাদের মানুষকে চাই। 

তখন তুমুল করতালি  আর স্লোগানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তার বক্তব্যের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

অবশ্য পংকি খান নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নামও বলতে ছাড়েন নি। সেক্ষেত্রে সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরীর কথা বলতেই আবারও স্লোগান আর করতালিতে ফেটে পড়লেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

তো আগামী সংসদ নির্বাচনেরতো আরও প্রায় দু’বছর বাকী। সেক্ষেত্রে বিশ্বনাথ- ওসমানীনগরের উন্নয়ন হবে কিভাবে?

তাও পরিস্কার করে দিলেন পংকি খান। বললেন, সে পর্যন্ত আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়াকে আপনি যেভাবে উন্নয়নের ব্যাপারে সহযোগীতা করছেন, তাকেই আমাদের এমপি মনে করে সহযোগীতা অব্যাহত রাখবেন- এটাও আমাদের অনুরোধ।

এবারও তুমুল করতালি আর স্লোগান। সাথে মঞ্চে বসা এসএম নুনু মিয়ার মুখজুড়ে তৃপ্তির হাসি।

জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রীও বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরবাসীর মনের আগুন নিভানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

বলেছেন, এই আসনে আর বি টিম সি টিম চলবেনা। প্রধানমন্ত্রীকে আমি বলব, আপনারা আওয়ামী লীগেরই মানুষকেই এ আসনে সাংসদ হিসাবে চাইছেন। 

নুনু মিয়াকেও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সরকারের অন্যতম প্রধান এই নীতি নির্ধারক। 



সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স