শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

বন বিভাগের পুকুর চুরি গোবিন্দগঞ্জ- ছাতক- দোয়ারা সড়কে কাটা হচ্ছে ২ হাজার গাছ

  • প্রকাশের সময় : ২৮/০৮/২০২৬ ০৪:৪৩:৪২
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহিত
Share
1

সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে থাকা প্রায় দুই হাজার গাছ কাটা হচ্ছে। বন বিভাগের অনুমোদন ও ইজারার ভিত্তিতে এসব গাছ কাটা হলেও গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য, ইজারা প্রক্রিয়া, অনুমোদিত সীমানা, গাছের সংখ্যা, কর্তন ও পরিবহনে অনিয়ম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।


 



জানা যায়, ছাতক—গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশে ২০০২ ও ২০০৩ সালে রোপণ করা রেন্টি, মেহগনি, আকাশমনি, জাম, পিটালী, অর্জুন, ছাতিয়ান, জারুল, গামার, করই, চাম্বল, বাবলা ও কদমসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতশত গাছ রয়েছে। স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীদের হিসাবে প্রায় ২৫ বছর বয়সী এসব গাছের বাজারমূল্য ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। অথচ ইজারা মূল্যে এসব গাছের দাম পড়েছে ২—৩ হাজার টাকা মাত্র।


 



বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩—২৪ সালে ছাতক—গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েকটি লটে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর হাসনাবাদ থেকে তাজপুর অংশের গাছ কর্তন করা হলেও সেই সংখ্যা ও মূল্যের বিষয়ে তথ্য দেননি স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদুস। সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ৪৩৪টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এর ইজারা মূল্য ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া হাসনাবাদ থেকে ছাতক পর্যন্ত আরও ৭০২টি গাছের একটি লটের কর্তনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই কর্মকর্তা।


 



তবে অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত সীমানার বাইরে গাছ কাটা, রাতে গাছ কর্তন ও পরিবহন এবং ইজারার শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। সরেজমিনে তাজপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত গাছ কাটার চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলোর বাজারমূল্য কয়েকগুণ বেশি। যে দামে গাছ বিক্রি হয়েছে  শুধু ডাল- পালাই এর দ্বিগুন মুল্যে বিক্রি হবে।


 



এদিকে ছাতক—দোয়ারাবাজার সড়কের আরও দুটি লটে ৯২টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চারটি লটেরই সর্বোচ্চ দরদাতা সুনামগঞ্জের সুমন আহমদ হওয়ায় ইজারা প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, টেন্ডার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে নিলাম দেওয়া হয়েছে।

তকিপুর—তাজপুর লটের ইজারা, গাছের মূল্য ও নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে ২৭ আগস্ট ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি নামে একটি সামাজিক সংগঠন। তারা গাছের মূল্য, সংখ্যা, কাঠের পরিমাণ ও নিলাম প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।


 



দোয়ারাবাজারের কারুলগাঁও—বেতুরা সড়কেও দুটি লটে ৯২টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের দাবি, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য গাছগুলো কাটার প্রয়োজন হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ কাটার আগেই সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, যার জন্য রাস্তা প্রশস্থের অজুহাতে ওই গাছ কর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইজারাদার সুমন আহমদ চার লটের ইজারা পাওয়ার কথা স্বীকার করে রাতে গাছ কর্তন, পরিবহন ও ইজারা সীমানার বাইরে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে কাজ শেষ করতে দেরি হতে পারে বলে জানান।


 



সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের অফিসিয়াল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছাতক বনবিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস বলেন, কাগজে ভুল লেখা হয়েছে। মার্কিং মূলত গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট পর্যন্তই। ইজারার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। কর্তনের শর্ত ভঙ্গ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোয়ারাবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়ার্ক অর্ডার পেতে দেরি হওয়ায় রাস্তার কাজ আগে সম্পন্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গাছের প্রকৃত সংখ্যা, প্রজাতি, বয়স ও বাজারমূল্য, ইজারা সীমানা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে সরকারি রাজস্বের প্রকৃত ক্ষতির চিত্র বেরিয়ে আসবে।


সিলেট প্রতিদিন / এসএল


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স