সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন

সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন ও ন্যায় বিচার দাবি জানালেন চার সন্তান

  • প্রকাশের সময় : ১৭/০৮/২০২৬ ১৪:১২:৪৫
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের ছবি: সিলেট প্রতিদিন।
Share
10

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় এমএ সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমসহ গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যায় জড়িতদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের প্রবাসী চার সন্তান।


সোমবার (১৭আগস্ট) সকালে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান আরিফ ইফতেখার।


লিখিত বক্তব্যে আরিফ ইফতেখার বলেন, আমরা চার ভাই-বোনই প্রবাসে বসবাস করি। সিলেটে তাদের জন্মভূমিতে অবস্থিত বাসভবনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পৈশাচিক উপায়ে তাদের বাবা-মা এবং শিশু গৃহকর্মীকে হত্যা করে। একসঙ্গে পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে তারা মানসিকভাবে গভীরভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।


সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখতে চাই। আমাদের একটাই দাবি এই তিন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।


হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ও তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং আসল অপরাধী যেন কোনো ফাঁক ফোকর দিয়ে পার না পায়। আমাদের বাবা-মা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না। ছোট্ট সেই মেয়েটিও আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।কিন্তু তাদের হত্যার বিচার হলে অন্তত আমরা মনে করতে পারবো এই দেশে আইন ও বিচারব্যবস্থা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।


প্রশাসনের কাছে ৪ দফা দাবি উত্থাপন করে তিনি আরও বলেন, বাবা-মা ও ছোট গৃহকর্মী হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা। তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখা। আদালতের মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।


নিহত দম্পতি ও গৃহকর্মীর ছবি সংবাদ মাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন আরিফ ইফতেখার বলেন, পরিবারের এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বেদনাকাতর সময়ে নিহত বাবা-মা ও গৃহকর্মী মেয়েটির কোনো ছবি যেন সংবাদ মাধ্যম, অনলাইন পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা প্রচার না করা হয়। পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলা সিআইডির কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানাবো।


তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, সত্য কখনো চাপা পড়বে না একসময় প্রকাশিত হবেই৷ নিজেদের মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কোন প্রশ্নের উত্তর দেননি। সবশেষে তারা নিহতের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।


এসময় সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির মেয়ে তাহমিনা সাত্তার এনি, সেলিনা সুলতানা শিখা, তারানা সুলতানা শিমুসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে (১৫) হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের ওইদিনই পুলিশ বাবুল মিয়াকে আটক করে।


চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তার এজাহারে গ্রেফতার বাবুল মিয়ার নাম নেই। অবশ্য অজ্ঞাত হিসেবে মামলায় বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানী শেষে বিচারক ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।  


সিলেট প্রতিদিন / আরজে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স