মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

শোকাচ্ছন্ন শান্তিগঞ্জ, মামলার প্রস্তুতি

  • প্রকাশের সময় : ২২/০২/২০২২ ০৯:৫৩:২০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
9

গরু চুরির অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসাবে আটক, পরদিন আদালতে জামিনে মুক্তি। তবে মারাত্মক আহত অবস্থায় যেতে হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। তারপর ওসমানীতে। রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি ) দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ। কিন্তু তার আগের ১০/১২ দিন যমে মানুষে টানাটানি চলেছে। তবে সুস্থ বা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বদলে তিনি চলে গেলেন জীবনের ওপারে, যেখান থেকে আর কোনদিন কেউ ফিরে আসেনা।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের উজির মিয়ার ( ৪৫) মৃত্যুর জন্য তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের অভিযোগ, উজির মিয়াকে পুলিশ নির্যাতন করেছে এবং তিনি আর সুস্থ হতে পারেন নি। সেই নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি শান্তিগঞ্জে অনেক তোলপাড় হয়ে গেছে। প্রায় ৪ ঘন্টা সিলেট সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন উজির মিয়ার স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার ( ২২ ফেব্রুয়ারি ) ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি তার স্বজনদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বিকেল তিনটার দিকে পাগলায় তার নামাজে জানাজা শেষে বাঘেরকোনা গ্রামে উজির মিয়াকে চোখের জলে দাফন করেছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, উজির মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা ও পুলিশ প্রশাসনকে জড়িয়ে তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটিতে সদস্য আছেন তিনজন করে। একটি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও অপরটি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিগুলো দ্রুত কাজ শুরু করবে বলেও জানানো হয়েছে।

জানাজার আগে শোকাহত মানুষের পক্ষ থেকে উজির মিয়া হত্যার সুবিচারের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, উপজেলা সদর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম, শান্তিগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হেকিম, সহকারি পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) শুভাশিস ধর, শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজি মুক্তাদির হোসেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, কেন্দ্রিয় যুব দলের সহ-সভাপতি আনছার উদ্দিন, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কু, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের রাজনৈতিক সহকারি মো. হাসনাত হোসেন প্রমুখ।

এসময় বক্তারা উজির মিযার জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং তারা সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান। তারা এ ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করেছেন। এদিকে উজির মিয়ার পরিবারসহ পাড়াপ্রতিবেশী ও বাঘেরকোনা গ্রামবাসী এখনো শোকাচ্ছন্ন। তারা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

কয়েকজন এলাকাবাসী জানিয়েছেন, উজির মিয়া ভদ্র এবং সজ্জন মানুষ ছিলেন। তিনি গরুচুরির মতো ঘটনার সাথে জড়িত হতে পারেন- এমনটা মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়।

তাদের প্রশ্ন, সুস্থ অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পর জামিন পাওয়ার পর গুরুতর আহত হবেন কেন? এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছেনা। আর তাই এখন তার পরিবারের লোকজন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা ঘটনার ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সচেতন প্রতিটি মানুষের সহযোগীতা চাইছেন।

এদিকে জানা গেছে, উজির মিয়াকে হারিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আহাজারি চলছে। কেউ কেউ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তার মা অনেকটাই শোকে পাথর বলে জানিয়েছেন তাদের এক ঘনিষ্ঠজন।


সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স