মসজিদ ও সরকারি ভূমি জবরদখলের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১০জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ১১ ফেব্রুয়ারি জুম্মার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মোগলাবাজারের সিকন্দরপুর পশ্চিম মহল্লা জামে মসজিদের পার্শ্ববর্তী রাস্তায় এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন, রাউতকান্দি গ্রামের মাওলা ফরিদ উদ্দিনের ছেলে আহবাব হোসেন, মছকন্দর আলীর ছেলে রুবেল আহমদ, আব্দুল মান্নানের ছেলে নেছার আলী, মাওলানা ফরিদ উদ্দিনের ছেলে আবরার হোসেন সাকিব, দৌলতপুরের আজির উদ্দিনের ছেলে সুনাফর আলী, আব্দুল মজিদের ছেলে এখলাছ আহমদ, সিলেট নগরীর শাহচান্দ গাজী রোড নয়াসড়কের মাওলানা সাইফুদ্দিনের ছেলে হাসান বিন সায়েফ, আজিজুল আম্বিয়ার ছেলে আজিজুস সাকি হাজারী, দৌলতপুর প্রকাশিত সিকন্দরপুরের হাজী শফিক উদ্দিনের ছেলে মস্তাক আহমদ, মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে ছালিম আহমদ।
সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন মোগলাবাজারের রাউতকান্দি প্রকাশিত সিকন্দরপুরের আহবাব হোসেনের স্ত্রী ইমা বেগম। মামলার আসামীরা হলেন, মোগলাবাজারের রেঙ্গা আশুগঞ্জ এলাকার রাউতকান্দি গ্রামের সমছুল ইসলাম (কলা)’র ছেলে রায়হান আহমদ, ছদরুল ইসলাম চুনুর ছেলে ফারুক রশীদ মুন্না, মখলিছ আলীর ছেলে সায়েক মিয়া, মন্তজির আলীর ছেলে ছদরুল ইসলাম, আবু ছইদের ছেলে মিজানুর রহমান, মর্তুজ আলীর ছেলে এফ এম ফয়জুল হক, ফজলুর রহমানের ছেলে এনামুল হক, মৃত আব্দুন নুরের ছেলে রেজাউল করিম রাজু, মখলিছ আলীর ছেলে আখতার মিয়া, সায়েক মিয়ার ছেলে তানভীর আহমদ, আব্দুল কাদিরের ছেলে খালেদ আহমদ, খালেদ আহমদের ছেলে মাসুদ আহমদ তামিম, আব্দুর রউফের ছেলে শাফি, জহির উদ্দিনের ছিলে সিরাজ উদ্দিন ও লুৎফুর রহমান, শফিক উদ্দিনের ছেলে ছালিক মিয়া, ফজলুর রহমানের ছেলে নুরুল হক, চান মিয়ার ছেলে শামছুদ্দিন, ইব্রাহিম আলীর ছেলে আহমদ এহিয়া ছাদি, আব্দুল কাদিরের ছেলে শাহান আহমদ মোল্লা সহ অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০ জন। মামলার অভিযোগসূত্রে জানা যায়, আসামীরা উপরোক্ত মসজিদের দাতাদের কোন ওয়ারিসান নয়।
কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মসজিদের সম্পত্তি আত্মসাত ও সরকারি রাস্তা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আসামীদের সন্ত্রাসী তৎপরতা উশৃংখল আচরণে ও ভূমি দখলের পায়তারার প্রেক্ষিতে মোগলাবাজার থানায় মস্তাক আহমদ ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত জেলা জেলা হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মোগলাবাজার বিবিধ মামলা নং ৫০/২০২১।
এতে মামলার বাদী ইমা বেগমের আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আসামীরা। তারা ইমা বেগমের আত্মীয় স্বজনদের রাস্তা-ঘাটে পেয়ে নানা ধরনের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। এমনকি মসজিদের ভেতরেও সন্ত্রাসীরা তাদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। তাছাড়া ঈদগাহ ভূমিদাতা মিফতাহ উজ্জামান মিফতাকে মোগলাবাজারের রাউতকান্দি প্রকাশিত সিকন্দরপুর গ্রামের আবু ছইদের ছেলে মিজানুর রহমান তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ০১৩০৫৮১৬৭০৮ নাম্বার থেকে তার ব্যবহৃত ০১৭১৫-৪১৭৬৬৫ নাম্বারে ফোন দিয়ে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে। অনথ্যায় যে কোন মূহুর্তে বড় ধরনের ক্ষতি করে দেবে বলেও শাসিয়ে দেয় এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার উক্ত মিজানুর রহমান ১০/১২টি মোটর সাইকেলযোগে মিফতাহ উজ্জামানের গ্রামে এসে মহড়া দেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ ঘটনায় তিনি ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মোগলাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন (জিডি নং ৫১০)। পরবর্তীতে ৪ ফেব্রæয়ারী উক্ত মসজিদে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করে আসামীরা উত্তেজিত হয়ে মসজিদের ভেতরে অবস্থানরত মুসল্লী সহ বাদী পক্ষের লোকজনের উপর আক্রমনের চেষ্টা করে ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। তাছাড়া মসজিদ ও সরকারি জায়গায় যে কোন মূল্যে তোরণ নির্মাণ করবে বলে হুমকি দেয়। এরই ধারাবহিকতায় ১১ ফেব্রুয়ারি বাদী ইমা বেগমের স্বামী সহ আত্মীয় স্বজন জুম্মার নামাজ শেষে বাড়ীর দিকে রওয়ানা হলে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা আসামীরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে গুরুতর আহতদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে গুরুত আহতদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উল্লেখ্য যে, আসামী পক্ষের লোকজন সিলেটের বিভিন্ন গণমাধ্যমে রেঙ্গা আশুগঞ্জ বাজার কল্যাণ সংস্থার সভাপতি, হাজারী গ্রæপ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিলেটের বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত সমাজসেবী শামসুজ্জামান কবির, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক জিন্দাবাজার শাখার সিনিয়র ম্যানেজার মাওলানা আখলাকুল মাওলা বাহার, সিকান্দরপুর পশ্চিম মহল্লার পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রস্তাবিত ঈদগাহ নির্মাণে সমাজসেবী মিফতাহ উজ্জামান মিফতা ও তার ভাইয়েরা ১৮ শতক ভূমি দান করেন।
২০১৬ইং সনে যা ওয়াকফ করে দেওয়া হয়। কিন্তু উক্ত ভূমিদাতাকে জামায়াত-শিবিরের কর্মী বলে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়। ৯নং দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক স্বনামধন্য চেয়ারম্যান প্রয়াত আজিজুল আম্বিয়ার ছেলে সাকি হাজারী ও তার ভাতিজা বাচ্চু হাজারীকে ছিনতকারী ও সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে তাদেরকেও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। তাদের এসব অপ্রচারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। পক্ষান্তরে সিকান্দপুর পশ্চিম মহল্লার পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে এসব মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।




প্রতিদিন ডেস্ক



