২০০৮ সালে আহমেদাবাদ বিস্ফোরণের প্রধান লক্ষ্য ছিলেন গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আহমেদাবাদ বিস্ফোরণ কাণ্ডে রায়দানের সঙ্গে সঙ্গে ফাঁস হল বড়সড় হত্যার ষড়যন্ত্র।
১৩ বছর পর শুক্রবার আহমেদাবাদ বিস্ফোরণ কাণ্ডে নজিরবিহীন রায় শোনায় গুজরাটের বিশেষ আদালত। ৪৯ জন দোষীর মধ্যে ৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা। দেশের মধ্যে প্রথমবার একসঙ্গে এতজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজার রায় শোনাল আদালত। শুনানি চলাকালীন ও রায়ের সঙ্গেই সামনে আসে চমকে দেওয়া সত্যি। এই কেসে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই স্বীকার করেন, যে বোমা বিস্ফোরণের চক্রীর প্রধান টার্গেট ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এই মামলার আইনজীবী যতীন ওজা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সেদিন গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কোথায় কোথায় যাবেন সেই অনুযায়ী বানানো হয়েছিল বিস্ফোরণের ছক । এমনভাবে হিসেব করে একটার পর একটা বোমা রাখা হয়েছিল ।
সরকারি আইনজীবীর দাবি, ২০১০ সালেই শুনানি চলাকালীন অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বয়ান রেকর্ড করার সময় গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। অভিযু্ক্তের বকব্য অনুযায়ী প্রথম বোম ব্লাস্টর পর সিভিল হাসপাতালে পরের বোমটা রাখা হয়েছি। কারণ, হামলাকারীদের অনুমান ছিল ঘায়েলদের দেখতে ওখানে যাবেন গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তখনই হবে বিস্ফোরণ।
২০০৮ সালে ২৬ জুলাই একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা আহমেদাবাদ। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মোট ২১টি জায়গায় হয় বিস্ফোরণ। আতঙ্কে শিউরে ওঠে গোটা দেশ। মুহূ্র্তে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। সেদিনের ঘটনায় আহত হন ২০০-এরও বেশি মানুষ। মৃত্যু হয় ৫৬ জনের। গুজরাট পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ফোরণের চক্রান্ত করেছিল ইন্ডিয়ান মুজাহিদ্দিন জঙ্গি গোষ্ঠী।
প্রাথমিকভাবে এই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলায় ৮৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করার অভিযোগের পাশাপাশি ইউপিএ ধারাতেও মামলা রুজু করা হয়। শুনানি শেষে মামলায় অভিযুক্ত ৭৭ জনের মধ্যে বাকি ৪৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল । বাকি ২৮ জনকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করে আদালত। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয় এই মামলার শুনানি। ২০১৩ সালে কয়েকজন অভিযুক্ত জেল ভেঙে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। জেল চত্বরে মাটির তলায় ২১৩ ফুট গভীর গর্ত করে পালানোর ছক কষেছিল অভিযুক্তরা। হলিউডি সিনেমাকেও টেক্কা দেওয়া সে পরিকল্পনা পুলিশি তৎপরতায় ভেস্তে যায়। দীর্ঘ দিন ধরেই চলছিল মামলাটির শুনানিতে সব মিলিয়ে ১ হাজার ১০০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ২৬ জন ছিল রাজসাক্ষী।




প্রতিদিন ডেস্ক



