সিলেটে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মালিকানাধীন জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাত্র তিনদিন পর আবারও সেই জায়গা দখল করে দোকানপাট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।
জেলা প্রশাসন কর্তৃক অভিযান চালানোর রেশ কাটতে না কাটতেই দখলদারদের এমন আচরণে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সিলেটের সালিয়া, সালুটিকর ও বিমানবন্দর এলাকার তিনটি পৃথক স্থান থেকে মোট ১২টি অবৈধ দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের অভিযানের ফলে স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু অভিযানের মাত্র তিনদিনের মাথায় ফের সালিয়া সিঙ্গারপুল এলাকায় অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে তুলছেন প্রভাবশালী দখলদারেরা। প্রশাসনের তদারকির অভাবে এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সওজ বিভাগের মালিকানাধীন জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। গত ২৮ জুলাই দখলদারদের স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থাপনা অপসারণ না করায় সোমবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.পারভেজ। এসময় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও সওজ, সিলেটের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে খলিল ভেরাইটিজ স্টোরের প্রোপ্রাইটার খলিলুর রহমান খলিল বলেন, পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে মাত্র দুই দিন আগের নোটিশে হঠাৎ পুলিশ ও গাড়ি নিয়ে এসে দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।
পুনরায় অবৈধভাবে জায়গা দখল করে দোকান স্থাপনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, উচ্ছেদের পর তিনি কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেননি। পানিতে ভিজে যাওয়া মালামাল শুকানো ও সরিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে এবং সাময়িকভাবে বসার জন্য কেবল ত্রিপল টাঙিয়েছেন।
সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.পারভেজ বলেন, আমরা আবারও ওইদিকে অভিযান উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবো। কেউ আইন অমান্য করলে অবশ্যই তাকে আইনের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে আবারও অভিযান চালানো হবে এবং রুটিন অনুযায়ী ওই এলাকার পাশাপাশি অন্যান্য স্থানেও উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই করেই সওজ-এর সীমানা ও দাগ নির্ধারণ করা হয়েছে। কারো ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় হলে উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।




প্রতিদিন ডেস্ক



