সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার জাহাঙ্গীরগাও মির্ধারপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় শ্রেণি কক্ষ, একাডেমিক ভবন, শিক্ষক সংকট, আর্সেনিক মুক্ত টিউবওয়েল, প্রয়োজনীয় ডেস্ক, বেঞ্চের অভাব ও এমপিও ভুক্ত করণ স্বীকৃতি না পাওয়ায় নানান সমস্যার বোঝা মাথায় নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পাঠদান।
এ ছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই জরাজীর্ণ টিনশেডের কক্ষগুলোর অধিকাংশের টিন নষ্ট হওয়ায় পানি পড়ে বর্ষায় বই-খাতা ভিজে যায়। এছাড়া প্রবাসী ও এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে আসছে করোনাভাইরাসের কারণে প্রবাসী ও এলাকাবাসী আর্থিকভাবে সহযোগিতা খুবই কষ্টকর হচ্ছে বলে জানাযায়।
১৯৯২ সালে উপজেলার একমাত্র মহিলা মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ভারতীয় সীমান্তবর্তী উত্তর জনপদের পল্লীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ মাদ্রাসাটি প্রায় প্রতি বছর দাখিল, জেডিসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষায় শতভাগসহ জিপিএ ৫ পেয়ে চমক সৃষ্টি করে আসছে।
২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ছিল শতকরা ১০০ ভাগ, জেডিসি পরীক্ষায় ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে পাসের হার ছিল শতকরা ১০০ ভাগ, ইসিই পরীক্ষায় ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাসের হার ছিল শতকরা ১০০ ভাগ, প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ফলাফল সন্তোষজনক হলেও একাডেমিক ভবন না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে ৮জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। টিউবওয়েল না থাকায় শিক্ষার্থীরা পাশের অন্য বাড়ি থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, ১৯৯২ সালে জাহাঙ্গীরগাও গ্রামের মরহুম মনোয়ার আলী, ভূমিদাতা মুখলেছ আলী, ইশাদ আলী মেম্বার, ওয়ারিছ আলী, আব্দুল কাদির, এরশাদ মিয়া এলাকায় মাদ্রাসা শিক্ষার বিস্তারে চাহিদা মেটাতে তাদের উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় এ প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন।
এ মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছে। মাদ্রাসার শিক্ষকগণ সামান্য সম্মানী নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন, সামান্য সম্মানী নিয়ে তাদের সংসার চালানো খুবই কষ্টকর হচ্ছে।
মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার জানায়, ছাত্রীদের জন্য টয়লেট না থাকায় খুব বেশি সমস্যা রয়েছি। মেয়েদের এ জন্য চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। একই শ্রেণির তাওহিদা আক্তার ও পারুল আক্তার জানায়, মাদ্রাসায় যাতায়াতে কাঁচা সড়কে বর্ষা মৌসুমে অনেক কষ্ট করে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি কারও মাথাব্যথা নেই।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবুল হোসাইন জানান, মাদ্রাসাটিতে ৫শ’ শিক্ষার্থী পাঠদানের জন্য ৮জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। মাদ্রাসাটি শুরু থেকে এ যাবৎ পর্যন্ত দাখিল (এসএসসি) জেডিসি ও ইবতেদায়ী পরীক্ষায় শতভাগসহ সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে আসছে। একাডেমিক ভবন না থাকায় অতিকষ্টে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি একাডেমিক ভবন, শৌচাগার ও কিছু আসবাবপত্র সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন জানান, পরকালের নাজাতের ব্যবস্থার জন্যে মাদ্রাসাটি এলাকাবাসীর সহযোগিতায় স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এ মাদ্রাসায় একাডেমিক ভবন, রাস্তা পাকা করণ ও সর্বপরি মাদ্রাসাটি জাতীয় করণ (এমপিও ভুক্তি) এখন সময়ের দাবি হয়ে পড়েছে।
মাদ্রাসার পরিচালক মাহমুদ আলী জানান, এটি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী ও এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় চলছে করোনাভাইরাসের কারণে টাকা পয়সার সমস্যা চলছে সরকারের সহযোগিতা না পেলে মাদ্রাসাটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম তাই মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে তিনি প্রবাসী, এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সর্বাত্বক সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রোটারিয়ান এম আবুল হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীরগাও মির্ধারপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিও ভুক্ত ও একাডেমিক ভবন নির্মাণে পরিকল্পনা মন্ত্রী আব্দুল মান্নান এমপি মহোদয়, ছাতক- দোয়ারাবাজার আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।




দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি



