শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পাঁচ সহপাঠীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন ও মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (এফইএস) বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের এক ছাত্রী।
সম্প্রতি এ বিষয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন বিরোধী সেলের নিকট বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগে দায়ের করেছেন ওই ছাত্রী।
অভিযুক্তরা হলেন- আরিফুল ইসলাম, মো. জায়েদ ইকবাল, মো. ইমাম হোসেন ইমরান , মো. বিশাল আলী ও মো. রিফাত হোসেন। তারা সবাই একই বর্ষ ও একই সেশনের শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী বলেছেন, অভিযুক্তরা প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে এখন পর্যন্ত ক্লাসের ভিতরে এবং বাইরে তাকে উদ্দেশ্য করে অবাঞ্চিত মন্তব্য, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অশোভন অঙ্গভঙ্গি, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, টিটকারী ও কুৎসা রটনা ও চরিত্র হননের চেষ্টা করে আসছে।
সর্বশেষ গত ১১ নভেম্বর তাদের ম্যানেজমেন্ট প্লান কোর্সের ফিল্ড ওয়ার্কে খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তদের একজন মো. জায়েদ ইকবালের দ্বারা যৌন ইংগিতপূর্ণ মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন এর সম্মুখীন হন তিনি। এ সময় বাকির জায়েদের পক্ষ নিয়ে তাকে সমর্থন করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সহপাঠী হওয়ায় সম্পর্কের স্বার্থে এতদিন চেপে রাখার চেষ্টা করলেও বর্তমানে তাদের এ ধরণের কর্মকান্ড বেড়েই চলছে।
অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম, মো. জায়েদ ইকবাল, মো. ইমাম হোসেন ইমরান, মো. বিশাল আলী প্রায়শই বিভিন্ন সময় তাকে উদ্দেশ্য করে নানা অবাঞ্চিত ও যৌন ইংগিতপূর্ণ মন্তব্য, টিটকারী, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অশোভন অঙ্গভঙ্গি, তার রীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও কুৎসা রটনা করে আসছে। আর মো. রিফাত হোসেন এসব কর্মকান্ড সমর্থন করে মিলেমিশে হাসাহাসি ও টিটকারী করে আসছে। তাদের এসব কর্মকান্ডে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান নিয়ে বসবাসের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই তাদের এসব কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ওই ছাত্রী।
অভিযোগকারী ছাত্রী বলেন, অভিযুক্তরা প্রথম বর্ষ থেকেই ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে আমাকে টার্গেট করে। তাদের পাত্তা না দেওয়ায় তারা এসব কাজ প্রতিনিয়ত করতেই থাকে। সহপাঠী হওয়ায় সম্পর্কের স্বার্থে এতদিন প্রতিবাদ না করে চুপ থাকি। কিন্তু এই দুর্বলতার সুযোগে তারা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী আরও বলেন, শুধু আমি নই, আমার মতো আরও অনেক মেয়ে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানির শিকার হন। তাদের মধ্যে খুব স্বল্পসংখ্যক ভুক্তভোগী মুখ খোলেন। বাকিরা অজানা কারণে বিষয়গুলো চেপে রেখে নিজেরা মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন। আমি চাই সবাই প্রতিবাদ করুক। এসব কর্মকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে তারা নারীদের নিপীড়ন করতে সাহস পাবে না।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. জায়েদ ইকবাল, মো. ইমাম হোসেন ইমরান, মো. বিশাল আলী ও মো. রিফাত হোসেন কে ফোনে না পেয়ে আরিফুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে আরিফ বলেন, এসব মিথ্য অভিযোগ। আমি রাজনীতি করি না। কারো সাথে আমার ঝামেলাও নাই।
যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন বিরোধ কেন্দ্রের সদস্য অধ্যাপক জায়েদা শারমিন বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে ফলাফল বলা যাবে।




শাবিপ্রবি প্রতিনিধি



