রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন

সিলেটে বারবার অগ্নিকাণ্ড

  • প্রকাশের সময় : ০৮/০৩/২০২২ ০১:২৫:৪৭
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
11

মশাহিদ আলী: সিলেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা বাড়লেও বাড়েনি জনসচেতনতা। সম্প্রতি সিলেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে চলেছে। জীবনহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও। 

সিলেটে অধিকাংশ অগ্নিকান্ডের ঘটনার সূত্রপাতের পেছনে মানুষের অসেচতনতা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক উপকরণ ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা ও অপরিকল্পিত নগরায়নকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি সিলেট বেশ কয়েকটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত রোববার (৬মার্চ) নগরীর জেল‌রোড এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আসবাবপত্রের কারখানায় আগুন লেগে তিনটি কারখানা ও বস্তির ১২টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রাত ৯টার দিকে নগরের জেল রোড সংলগ্ন মুর্শেদ ও শাকিলের স্টিলের আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় ওয়েল্ডিংয়ের সময় আগুনের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে দমকল বাহিনীর কর্মীরা জানান, জনবসতির ভেতরে স্থাপিত একটি কারখানায় ওয়েল্ডিং করার সময় রাতে আগুন লেগে যায়। পাশেই একটি আসবাবপত্রের গোডা্‌উন থাকায় আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত আশপাশের কারখানা ও ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নেভায়। তবে আশপাশে কোনো পানির উৎস না থাকায় এবং সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের অনেকটা বেকায়দায় পড়তে হয়। পরে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে তিনটি কারখানা ও ১২টি কাঁচা ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এর আগের দিন শনিবার (৫ মার্চ) নগরীর গোয়াবাড়িতে আগুনে দগ্ধ হয়ে শোভা রানি চন্দ (৮০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আরও এক শিশু দগ্ধ হয়েছে। শোভা রানি চন্দ ওই এলাকার মৃত শচিন্দ্র চন্দের স্ত্রী।

জানা যায়, শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গোয়াবাড়ির মোহনা আবাসিক এলাকার একটি কলোনিতে রান্না ঘরের গ্যাসের চুলা থেকে আগুন লেগে যায়। ওই কলোনিটি সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশার মালিকানাধীন।

আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুনে ৮টি বসতঘর ছাই হয়ে যায়। আর ঘর থেকে বেরোতে না পারায় শোভা রানি চন্দ মারা যান।

দমকল বাহিনীর বরাত দিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, আগুনে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬ লাখ টাকা।এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দক্ষিণ সুরমায় খোলা তেলের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন থেকে বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পাশের আরেকটি দোকানপাট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় সামনে থাকা তেলবাহী ট্র্যাংক লরিতে আগুন লেগে ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নগরীর বাবনা পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৭টি ইউনিটের কর্মীরা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সিলেট নগরের তালতলা থেকে ৪টি এবং দক্ষিণ সুরমার ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালায়। তবে কৌতূহলী জনতা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় ব্যাঘাত ঘটে। পরে পুলিশ জনতাকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। আগুণের ভয়াবহতায় সহযোগিতা চেয়ে সেনানিবাস ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকেও আহ্বান করা হয়। সবকটি ইউনিটের যৌথ চেষ্টায় রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপ-পরিচালক (চ.দা.) সানাউল হক বলেন, ৭টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। একটি এলপিজি গ্যাসের দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লেগে পাশে আরেকটি দোকান পুড়ে যায়। এ সময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্র্যাংক লরিতেও আগুন লাগে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে ভয়ের কারণ ছিল পাশেই যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা কোম্পানির ডিপো থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল। যে কারণে ৭টি ইউনিট কাজ করার পরও সেনানীবাসের ইউনিটকে ডাকা হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় তাদের পথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনো নিরুপন করা যায়নি।

গত ২৬ জানুয়ারি নগরীর চৌহাট্টায় একটি ফার্মেসীতে আগ্নিকান্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। আগুনে পুড়ে গেছে ফার্মেসির সকল মালামাল। বুধবার (২৬জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে নগরীর চৌহাট্টার ইউনিক ফার্মেসিতে অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকান্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফার্মেসির ডিসপ্লে ও স্টকের ঔষধ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা যুবলীগের সাধরণ সম্পাদক ও ফার্মেসির মালিক মো.শামীম আহমদ।

সিলেট ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বেলাল হোসেন জানান, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে রাত ৩টা ২৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটতে পারে।

এব্যাপারে সিলেট ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো.সফিকুল ইসলাম ভূঞা সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, সিলেটে সম্প্রতি সময়ের ঘটনাগুলো ঘটেছে এখন শুষ্ক মৌসুম আসছে। মানুষের অসেচতনতা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক উপকরণ ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার কারণে অগ্নিকান্ড ঘটছে। এগুলো থেকে উত্তরণে আমাদেরকে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন সিলেটের বিভিন্ন স্থানে আমরা মহড়া দিচ্ছি।আজ সিলেট বিভাগের সকল স্টেশনগুলোতে মহড়া চলছে।আগামী দু’দিন সচেতনতা মহড়া চলবে। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় আমরা ঘটনাস্থলে সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারি না। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রাস্তা ছোট, রাস্তার মধ্যে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হয় জ্যামে পড়তে হয় ফলে সঠিক সময়ে যেতে পারি না।


সিলেট প্রতিদিন / এমএ


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স