এনামুল কবীর :: কেউ বলেন অমর কবিতা, কেউবা স্বাধানীনতার ঘোষণা আর কেউবা দেখেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হিসাবে। একাত্তরের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জড়ো হওয়া লক্ষ জনতার সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠে দেয়া সেই ভাষনের মহিমা এমনই। তার আবেদন এখনো, এই ৫০ বছর পরেও সেদিনের মতই আছে।
আজকের প্রেক্ষাপটে সেই ভাষণ শোনে বয়স্করা স্মৃতিকাতর হন আর তরুণ যুবারা দেশ প্রেমের মন্ত্রে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।
প্রমাণ পাওয়া গেলো অন্যান্য বছরের মতো এবারও। সোমবার সারাদিন সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজার এলাকার কামরান চত্বরের পাশেই ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার হলো ভিডিওসহ। প্রায় সারাদিন সেখানে এবং আশপাশ এলাকায় জড়ো হয়ে প্রায় সববয়সের মানুষকে জটলা পাকিয়ে ভিডিও দেখতে এবং ভাষণ শুনতে দেখা গেছে। শ্রোতা বা দর্শকদের সারিতে যেমন সাধারণ পথচারী ছিলেন, তেমনি প্যাডেল বা ইঞ্জিন থামিয়ে শুনেছেন রিকশা বা ভ্যানচালক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক, বড় বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্কুল বা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নারী পুরুষ, প্রায় সব পেশার মানুষ।
সেই একাত্তরে যেমন রেসকোর্সমুখী জনস্রোত ছিল, তেমনটি না হলেও ছোট বড় জটলায় এই ‘অমর কবির অমর কবিতাখানির’ আবেদন যে আজো বহাল তবিয়তে বাংলাদেশ এবং বাঙালিকে কাাঁদায় এবং ভাবায়- তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই কারও।
যেমন, প্রায় সত্তরোর্ধ আব্দুল হান্নানের কথাই ধরুন। বিকেল তিনটার দিকে হাঁটছিলেন নগরীর কুদরত উল্লাহ মার্কেটের সামনের ফুটপাত দিয়ে। হঠা ওপারের প্রচার যন্ত্রের দিকে চেয়ে থাকলে অবাক করা চোখে। পুরো ভাষণের ভিডিওটা দেখলেন। তারপর আবার চলতে শুরু করলেন।
কথায় কথায় এই প্রতিবেদককে জানালেন, এই ভাষণটি এতবার শুনেছেন ইদানিং দেখছেন। কিন্তু তবু প্রথমবার শুনছেন বলেই তার মনে হয়।
কলেজ ছাত্র সুমনের মতে, ভাষণটি শুনে তিনি যেমন একাত্তরের মার্চকে উপলব্ধি করতে পারেন, তেমনি তার মনে স্বদেশপ্রেম বারবার জেগে উঠে।
সোমবার ৭ই মার্চ উপলক্ষ্যে সিলেট মহানগরী ছাড়িয়ে বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন জেলা উপজেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একইভাবে শোনা গেছে ঐতিহাসিক এই ভাষণ। সিলেটের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি স্কুল কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি বা ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সিলেট জেলা ও মাহনগর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমুহ, সিলেট জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার ও সদস্যবৃন্দসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয়েছে সিলেট বিভাগের অপর তিন জেলা মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে। শুধু জেলা সদরে নয়, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা সদর এবং গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজারেও স্থানীয় আওয়ামী ঘরানার নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ আরোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।




এনামুল কবীর



