গত এক সপ্তাহ থেকে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্য তেল। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) থেকে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাসও। এলপি গ্যাসের ১২ কেজির দাম ১২৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৯১ টাকা করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির উৎপাদিত সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম আগের ৫৯১ টাকাই থাকছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাসের নতুন এই দর ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এলপি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৬২ টাকা বৃদ্ধি করে ১২৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া জানুয়ারিতে ছিল ১১৭৮ টাকা। আগের মাসের চেয়ে কেজিতে দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ। এ ছাড়া গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৬৪ টাকা ৭৮ পয়সা, যা আগে ছিল ৫৭ টাকা ৮১ পয়সা। গত বছরের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করেছিল এ সংস্থা। এর পর থেকে প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।
এছাড়াও প্রতি লিটার সোয়াবিন তেল ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ৫ লিটার খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা। বোতলজাত বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা করে।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে নগরীতে বাড়ছে পোল্ট্রি ফার্মের মুরগির কেজি, কক মোরগ ও লাল মোরগের দামও। যেখানে গত সপ্তাহের প্রতি কেজি সাদা ফার্মের মোরগের দাম ছিল ১৪৫-১৫০ টাকা, সেখানে আজ থেকে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা করে কেজি। রোষ্টের কক মোরগ প্রতি পিছ বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। লাল মোরগ প্রতি পিছ ৫০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা করে কেজি।
সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেয়াজ ও সবজির দামও। পেয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা করে। আলু বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে ১৫-২৫ টাকা, ফুলকপি ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫-৩০, শিম ৩৫-৪৫, শালগম ৩০-৪০, বিচি ৮০-১১০ টাকা করে কেজি বিক্রি হচ্ছে।
রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। শিং ও টাকি মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। শোলমাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা। তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা ছোট ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। নলামাছ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি।
ভোক্তারা বলছেন- হঠাৎ করে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়া অনেকের ক্ষয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। রমজানকে সামনে রেখে এভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়লে পুরো রমজান মাস না খেয়ে মরতে হবে। দিন দিন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে কিন্তু সে তুলনায় আয়-রোজগার বাড়ছে না। নিম্ন বিত্তের পাশাপাশি মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা আছেন বিপাকে।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



