ছাতক সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লিখকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি (কলম বিরতি) পালন করছেন।
মঙ্গলবার (১ মঙ্গলবার) সকাল থেকে এ কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা।
সোমবার সন্ধ্যায় দলিল লিখক সমিতির শেডে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপজেলা দলিল লিখক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তারা জানান, সাব-রেজিস্ট্রার ফখরুল ইসলাম ও সাব রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান সহকারী আব্দুর রহিমের সাথে কার্যালয়ে ছাতক পৌর সভার মেয়রের বড় ভাই কামাল চৌধুরীর অশালীন আচরণ, হুমকি ও সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করা সর্বোপরি সোমবার বিকেলে সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসে দলিল লিখক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনসহ একাধিক দলিল লিখকদের (ডিড রাইটার) গালি-গালাজ ও অপমান করাসহ সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের প্রতিবাদে দলিল লিখক সমিতির নেতৃত্বে সব দলিল লিখকরা (ডিড রাইটার) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আবারও অফিসে আসেন কামাল চৌধুরী। তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের খাস কামরায় বসেই দলিল লিখকদেরকে অশালীন ভাষায় গালা-গালি করেন। এক পর্যায়ে ২/৩ জন দলিল লিখককে লাঞ্চিত করে সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করেন। এতে সম্পাদন করা অনেক দলিলই রেজিস্ট্রি হয়নি। বাঁধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে অফিসের রেজিস্ট্রিসহ সকল কার্যক্রম।
ঘটনায় তাৎক্ষনিক দলিল লিখক সমিতির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসভায় কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিং কালে দলিল লিখক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কুমার দাস, সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া আনু, সাবেক চেয়ারম্যান শাহাজুল ইসলাম, দলিল লিখক সমিতির রঞ্জিত কুমার চৌধুরী, খুরশিদ মিয়া, শফিকুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার।
মুহিবুল হক,নুরুল ইসলাম, ফয়ছল আহমেদ, বাকি বিল্লাহ, হিফজুল বারী, মুরাদ মিয়া, ওয়াছির আলী, আব্দুল মমিন, আব্দুস সালাম নোমান, আব্দুল কাইয়ুম, নজমুল হোসেন, লিকছন দাস, সুমন মিয়া, কদর আলী, আশরাফুল হক, দেলোয়ার হোসেন, শাহিন মিয়া, রুকন মিয়া, মাহমুদুল হাসান, সুনিল দাস, তালেব আলী, সোলাইমান আহমদ, নাজমুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার কর্মবিরতিতে সকল দলিল লিখকরা উপস্থিত ছিলেন
এব্যাপারে কামাল চৌধুরী জানান, একটি দলিল সম্পাদনের বিষয়ে সাব রেজিস্ট্রারের সাথে সময় নিয়ে সোমবার বিকেলে তার কার্যালয়ে যান তিনি। এখানে সমিতির সভাপতির নেতৃত্বে কয়েকজন দলিল লিখক বিনাকারণে তার উপর চড়াও হয়। এসময় তারা তাকে লাঞ্চিত করেছে। সাব রেজিস্ট্রার বিষয়টি দেখেছেন এবং তাদেরকে বারণ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে আইনীব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
সাব রেজিস্ট্রার ফখরুল ইসলাম জানান, কামাল চৌধুরী তার কাছে এসেছিলেন। এসময় খাস কামরায় দলিল লিখক সমিতির ২/৩ জনের সাথে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে।




ছাতক প্রতিনিধি



