দেবব্রত রায় দিপন:: নগরীর ১১ টি ছড়ার মধ্যে গোয়ালীছড়া একটি। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছড়াটি সংস্কার করছে সিসিক। ফলে বন্ধ পানিপ্রবাহের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে গোয়ালীছড়া। নির্মান কাজ চলছে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ের। একইভাবে সংস্কার কার্যক্রম চলছে হলদি ছড়ায়। এই ছড়াটি উপশহরস্থ নগরীর রোজভিউ পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে মিশে গেছে গোয়ালীছড়ায়।
সিসিক বলছে চলমান সংস্কার কাজ শেষ হলে নগরীতে থাকবে না জলাবদ্ধতা। নগরীতে বেশ কয়েকটি ছড়ার নাম শোনা গেলেও সিসিকের তালিকায় নগরীতে রয়েছে এখন ১১ টি ছড়ার নাম। উপছড়াও আছে ১৭ টি। একসময় সিলেটের সবকটি ছড়ায় ছিল দখল রাজত্ব। এখন শুধু ছড়াগুলো দখলমুক্তই হয়নি পাশাপাশি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন।
ওয়াকওয়ে নির্মানের ফলে নগরবাসী সুযোগ পাচ্ছে নির্মল আনন্দের। প্রাত:ভ্রমণেও যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। আকর্ষন করছে নগরে আসা সকল পথচারীদের। ক্লান্তি অবসাদে রয়েছে সাজানো বেঞ্চ। রয়েছে সারি সারি ফুলের বাগান।
ইতোমধ্যে সিসিকের উদ্যোগে গোয়াবাড়ি, উপশহর, জল্লারপাড়, বালুচর, ও টিলাগড় এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি ওয়াকওয়ে। প্রকৃতির উপর ধ্বংশযজ্ঞ চালিয়ে নির্মান হচ্ছে নগর সভ্যতা। এর ফলে খেই হারাচ্ছে প্রকৃতি। বাসঅযোগ্য হচ্ছে পরিবেশ। প্রভাব ছিল সৌন্দর্য্যমন্ডিত কবিগুরুর ‘শ্রীভূমি’ সিলেটেও।
কিন্তু পরিকল্পিত নগরব্যবস্থায় সবকিছুই ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ‘শ্রীভূমির হৃত সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে কাজ করছে সিসিক। চলমান সংস্কার কাজ শেষ হলে যথার্থ অর্থেই সিলেট হবে পরিকল্পিত নগরী-এমনটাই আশাবাদ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের। নগরীতে ১৮৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে চলছে দুটি প্রকল্পের কাজ। প্রকল্প দুটির কাজ শেষ হলে বাড়বে নাগরিক সুবিধা। পাশাপাশি পাল্টে যাবে নগরীর চেহারা। প্রকল্প দুটির মধ্যে একটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের জুন মাসে। অন্য একটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ডিসেম্বরে।
সিসিকের দাবি-দুটি প্রকল্পেরই কাজ চলছে দ্রæত গতিতে। তবে প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় বরাদ্ধ যথেষ্ট নয়। ব্যয় বরাদ্ধ বাড়ানোর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে প্রচেষ্টা চলমান। পর্যাপ্ত বরাদ্ধ পেলে পরিকল্পিত নগরী হবে সিলেট। প্রকল্প দুটি হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকরণ। এর মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় বরাদ্ধ রয়েছে ৮৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকরণ প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নগরীর (সিসিকের নতুন বর্ধিত অংশ ব্যতিত) ৪২ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও প্রশস্থকরণ। তাছাড়া, একই প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর কবরস্থান, শ্মশানঘাট,রোড ডিভাইডার, ফুটওভার, রিটেইনিং ওয়াল, নদীর তীর সংরক্ষণ ও বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান। এই কিছুদিন আগেও নগরীর সর্বত্র ছিল রাস্তা খুড়াখুড়ির দৃশ্য। সিসিকের রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য রাস্তার দু’পাশে রাখা হতো মাঠির স্তুপ। যেখান থেকে যানবাহনের সাথে উড়তো ধূলো। ধূলোময় হয়ে উঠতো আশ-পাশের পরিবেশ। পথচারীরা হতেন বিবর্ণ। এখনও নেই-এমনটি বলা যাবে না। তবে দুর্ভোগ কমে গেছে অনেকাংশে।
নগরীর সবকটি রাস্তায় সিসিকের চলমান সংস্কার কাজ চলছে। বেড়েছে নগরীর সৌন্দর্য্য। এর ফলে পাল্টে গেছে ধূলায় ধূসর নগরীর পুরো চিত্র। এমন দৃশ্যে স্বস্থিতে নাগরিক সমাজ। কমেছে পথচারী ও অফিসগামী মানুষের নিত্যকার দুর্ভোগ। এখন নগরীর প্রতিটি রাস্তার বেড়েছে প্রশস্থতা। বর্ষার আগেই সংস্কার হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পথচারী চলাচলে রয়েছে বিস্তৃত ফুটওভার। জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কে দ্বিমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা করে সৌন্দর্য্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কাজ এখন বন্দরবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। বর্তমানে সড়ক বিভাজকের সৌন্দর্য্যবর্ধনের কাজ চলছে। চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ হলে পুরো সিলেট নগরী পরিকল্পিত। অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে নগরীর ৪২ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কার্যক্রম।
রাস্তাগুলো হলো- ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড থেকে শাহী ঈদগাহ, চোকিদেখি থেকে সুরমা পয়েন্ট, নাইওরপুল থেকে টিলাগড়, শাহী ঈদগাহ থেকে নাইওরপুল পয়েন্ট, জিন্দাবাজার থেকে লামাবাজার পয়েন্ট, চৌহাট্টা থেকে ফের লামাবাজার,কাজলশাহ নবাব রোড থেকে শেখঘাট হয়ে দক্ষিণসুরমার বঙ্গবীর রোড। তাছাড়া মহল্লার মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জ রোড থেকে মিয়া ফাজিলচিশত রোডসহ আরো কয়েকটি মহল্লা। এর মধ্যে অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুন মাসে মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই অবকাঠামো প্রকল্প শেষ করতে চায় সিসিক। এই প্রকল্পের আওতায় সিসিকের পরিকল্পনায় রয়েছে রাস্তার প্রশস্থতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ফুটওভার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যানযট মুক্ত নগরী।
এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নগরীর ১১ টি ছড়া এবং ১৭ টি উপছড়া সংস্কারকরণ। এটি বাস্তবায়িত হলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা পাবে নগরবাসী। ১১ টি ছড়া হলো- মালনীছড়া, গোয়ালীছড়া, কালিবাড়ি ছড়া, ধোপা ছড়া, মুগনী ছড়া, হলদী ছড়া, ভুবি ছড়া,গাভিয়ার খাল, যুগনী ছড়া,বাবু ছড়া ও রত্নার খাল। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকরণও রয়েছে এই প্রকল্পের আওতাধীন। এর মাধ্যমে নগরীতে ১০ টি প্রোডাকশন টিওবওয়েল নির্মাণ করা হবে। পুরাতন পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নতুন লাইন স্থাপন করা হবে। প্রকল্প সম্পন্ন হলে নগরীতে পানির আর ঘাটতি থাকবে না বলে জানিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন হলে বাড়বে নগরীর সৌন্দর্য্য। জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্তি পাবে নগরবাসী। একইসাথে পানির ঘাটতি পূরণসহ সুপেয় পানি নিশ্চত করা হবে।
সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজ বলেন, দুটি প্রকল্পই চলমান। এর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ রয়েছে প্রায় শেষ পর্যায়ে। জলাবদ্ধতা এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকরণ প্রকল্পের কাজও চলছে একই সাথে। আশা করছি মেয়াদের আগেই দুটি প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবো।
তিনি বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমের আগে শেষ হচ্ছে না ড্রেনেজ সংস্কার। এখন ছড়াগুলোর কাজ চলছে। তবে প্রকল্প দুটি শেষ হলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্তি পাবে নগরবাসী।




মহসিন সাদেক, লাখাই


