শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন

আবারও সমালোচনার কেন্দ্রে সেই জয়নাল, এবার ‘মার্তৃভাষা’ নিয়ে

  • প্রকাশের সময় : ২৭/০২/২০২২ ০৮:৩০:২৬
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
13

এনামুল কবীর :: আবারও সমালোচনার কেন্দ্রে গোলাপগঞ্জের সেই প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন। এক শিশু শিক্ষার্থী ও তার মা’কে মানসিক নির্যাতন, যথাস্থানে প্রতিবাদ না জানিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মিথ্যা তথ্য জানিয়ে বিভ্রান্ত করার পর এখন আবার তাকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা চলছে। সামলোচনার বিষয় ভুল বানান। তাও আবার হিন্দি উর্দু বা ইংরেজী বানান নয়, বাংলা। তাও আবার অপ্রচলিত কোন বানান নয়, বহুল প্রচলিত। আর ভুলটা অন্যকোন বিষয়ে নয়, স্বয়ং অমর একুশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান নিয়ে দেয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে। সেই স্ট্যাটাসে তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে লিখেছেন ‘মার্তৃভাষা’ দিবস। এ নিয়ে গোলাপগঞ্জের সচেতন মহলে চলছে তুমুল সমালোচনা।

জয়নাল আবেদিন গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের নালিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ইদানিং তিনি গোলাপগঞ্জের সচেতন প্রায় প্রতিটি মহলে অত্যন্ত সমালোচিত একজন। কারণ, গত জানুয়ারির গোড়ার দিকে তার স্কুলে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়ে ভর্তি হতে যাওয়া তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী, তার মাসহ  অন্যান্য অভিভাবকদের ফিরিয়ে দেয়া। শিশুটি গোলাপগঞ্জেরই অন্য একটি স্কুল থেকে টিসি নিয়ে গিয়েছিল। জয়নাল তার মাকে দু’দিন ভর্তি না করেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছিলেন, ওর বয়স আট বছর হয়নি। আন্ডার এজ শিশু আমি ভর্তি করতে পারবনা।

এরপর শিশুটির মামা, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ আরও একাধিক ব্যক্তিকে বললেও পাথর নড়েনি। শত অনুরোধ সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষকের মন গলেনি। তার সাফ কথা, আন্ডার এজ বাচ্চা তিনি তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করতে পারবেন না। এমনকি, যে স্কুল থেকে শিশুটি ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে তাদের নামেও তিনি ‘বদনাম’ ছড়িয়েছেন। বলেছেন, তারা না বুঝেই টিসি দিয়েছে।

অথচ জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, সেরকম কোন আইনই নেই দেশে।

বিষয়টি জানতে পেরে এই প্রতিবেদক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে ১২ জানুয়ারি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিসবাহ উদ্দিনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে স্কুলে ভর্তি করেন। পরে এই প্রতিবেদক কোন আইনে বাচ্চাটি ভর্তি করা হলোনা প্রথমে, আর পরে আবার কোন আইনে ভর্তি করা হলো- জানতে চাইরে জয়নাল কোন জবাব দিতে পারেন নি। ফোনের লাইন কেটে দেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ শেষে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেট প্রতিদিনে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। সেটি পড়ে অনেক পাঠক নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জানিয়েছেন, এর আগেও জয়নাল আবেদিনকে নিয়ে প্রচুর সমালোচনা  হয়েছে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখেও জয়নাল  আবেদিন ঐ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া দুরের কথা, সামান্য দুঃখও প্রকাশ করেন নি। উল্টো স্কুল ম্যানেজিং কমিটি সভা করে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকের সাথে কথা বলেছেন কি না, চেনেন কি না- ইত্যাদি প্রশ্ন করে আরও বিভ্রান্ত করেছেন এবং মানসিক অশান্তি সৃষ্টি করেছেন। সেটি তারা ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছেন। এটি নিয়েও হয়েছে প্রচুর সমালোচনা। তাছাড়া গোলাপগঞ্জ টিচার্স ক্লাব থেকেও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভুল বাক্যে নিন্দা জানানো হয়েছে যা গণমাধ্যমে প্রকাশও হয়েছে। এটি নিয়েও অনেক সচেতন শিক্ষক লজ্জায় মুখ ঢেকেছেন।

এত এত সমালোচনার পরও এখনো এই জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি।

সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি শেষে নালিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামক একটা ফেসবুক আইডি থেকে দেয়া স্ট্যাটাসে লেখা হয়েছে ‘মার্তৃভাষা’ দিবস।

বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়া নজিরবিহীন আন্দোলন সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের মহিমায় বিখ্যাত আমাদের একুশে ফেব্রুয়রি গত প্রায় ২০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এমন কি পাকিস্তানেও। এ অবস্থায় জয়নাল আবেদিন বানান ভুল করে ‘মার্তৃভাষা’ দিবস লিখলেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে মাতৃভাষা দিবসকে বিদ্রুপ করে লিখলেন- তাও বুঝতে পারছেন না অনেক পাঠক বা ফেসবুক ব্যবহারকারী। তাদের মতে, ভুল করলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে সংশোধনের সুযোগ আছে। তবে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেই ভুলটা বহাল তবিয়তে টিকে আছে। তাহলে কি তিনি স্বেচ্ছায় মাতৃভাষা দিবসকে বিদ্রæপ করে ‘মার্তৃভাষা’ লিখেছেন? বিষয়টি তদন্ত করে দেখারও দাবি জানিয়েছেন সচেতন শিক্ষক ও অভিভাবকদের কয়েকজন।

এ প্রসঙ্গে গোলাপগঞ্জেরই এক শিক্ষানুরাগী মুন্না মিয়া (২৬) বলেন, ভুল হতেই পারে। তবে তা সংশোধনের সুযোগ থাকা সত্তে¡ও যদি সংশোধন করা না হয়, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকেই। তবে জয়নাল  আবেদিনের ভুল সংশোধনের মানসিকতা যে নেই, এ ঘটনা কিন্তু তারই স্বাক্ষ্য। 

তিনি শিশু শিক্ষার্থী ও তার মাসহ পরিবারের সদস্যদের মানসিক নির্যাতন করেছেন, সেটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পরেও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন, গত প্রায় দু’ মাসেও শিশুটি মা বা পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন নি। সুতরাং বানান ভুল হোক আর সঠিক হোক- সেটি ঠিক করার দায় তার থাকবে কেন? বরং অন্যকোন মিথ্যা দিয়ে তিনি সেটিকে ঢাকার অপচেষ্টা করতে পারেন।

মুন্না মিয়াসহ গোলাপগঞ্জের সচেতন মহলের দাবি, ঐ শিশুটির অভিভাবকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সংক্রান্ত ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নিবেন। পাশাপাশি তার বেআইনী কার্যকলাপের সুষ্ঠ তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহনেরও আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, ্এর আগে দু’দিন দুইবার ঐ শিশুটির ব্যাপারে জয়নাল আবেদিনের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার নম্বরে কল দিলেও তিনি মোবাইলে কোন তথ্য দেন নি। তাই বানান ভুলের বিষয়েও তাকে আর কল দেয়া হয়নি।


সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স