মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

গোলাপগঞ্জে প্রয়াত নারী মুক্তিযোদ্ধার খেতাব ‌‘ভূয়া’ দাবি, যা বললেন ছেলে...

  • প্রকাশের সময় : ২২/০২/২০২২ ০৭:০৯:২২
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
16

গোলাপগঞ্জে প্রয়াত নারী মুক্তিযোদ্ধা ছায়ারুন্নেছার বিরুদ্ধে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ এনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পৌর শহরের একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টের হলরুমে মতবিনিময় করেন তারা। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভাদেশ্বর ইউনিয়নের নালীউরি গ্রামের আব্দুল মতিন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, আমাদের গ্রামের মৃত ফজির উদ্দিনের স্ত্রী ছায়ারুন নেছা ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সহ সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছেন। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ছায়ারুন্নেছা মুক্তিযোদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন না। এব্যাপারে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাও একমত। ছায়ারুন্নেচ্ছা যে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা এব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকেও কেন্দ্রে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।

কোন তদন্ত ছাড়াই ছায়ারুন্নেছার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লিপিবদ্ধ হয় কিভাবে, যা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়, এই মহিলা যে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা এজন্য স্থানীয় ভাদেশ্বর মুক্তিযোদ্ধা সংসদও বিগত সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এসব অভিযোগের কোন পাত্তা না দিয়ে কিভাবে একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আসে তা আমাদের জানা নেই।

তিনি বলেন, আমাদের নালীউরি গ্রামে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক ছিলাম। আমাদের গ্রামে ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর যখন যুদ্ধ হয়েছিল তখন ছায়ারুন্নেছা সহ তার পরিবারের কাউকে মুক্তিযুদ্ধে কোন অবদান রাখতে দেখিনি। গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারাও এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

তিনি প্রশ্ন করেন, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও কিভাবে একজন গৃহিনী মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট পান? বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়, ছায়ারুন্নেছার উত্তরাধিকারী ছেলে সন্তানরা কিভাবে আজও ভাতা সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছেন? কারা তাদের সহযোগিতা করছেন? তদন্ত করে সঠিক বিষয় জেনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের লজ্জা থেকে রক্ষা করতে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে আমাদের একটাই আকুল আবেদন।

এসময় গোলাপগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল আহাদ বলেন, ভাদেশ্বর ইউনিয়নে ৮২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। তারা কেউ জানেনা ছায়ারুন্নেছা কোথায় কিভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা অনেকবার এই মহিলার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, আব্দুর রহমান, কবির উদ্দিন, মোঃ আব্দুল হাই, জমির আহমদ, আব্দুর রউফ।

এদিকে প্রয়াত নারী মুক্তিযোদ্ধা ছায়ারুন্নেছার ছেলে সাইদুর রহমান এটি একটি ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বলেন, আমার বাবা ফজির উদ্দিনও একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে মা ছায়ারুন্নেছা ৪নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। জায়গা জমি নিয়ে বিরোধের ব্যক্তিগত ইস্যুকে ভিন্ন খাতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে প্রবাহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স