বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

ছাতকে গ্রামবাসীর তোপের মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ

  • প্রকাশের সময় : ১০/০২/২০২২ ১০:০০:৩৬
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
10

ছাতকে ভূমি চিহ্নিত করতে গিয়ে নিটল কার্টিজ পেপার মিল কর্তৃপক্ষকে গ্রামের মানুষের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। ভূমি চিহ্নিতকরণ কার্যক্রমের সময়ে  প্রতিবাদী হয়ে উঠে বাঁশখালা গ্রামবাসী। 

বুধবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় ওই ভূমি চিহ্নিত করতে গিয়ে গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়ে মিল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে তীব্র উত্তজনার সৃষ্ট হয় গ্রামবাসীর মধ্যে। পরে গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও ভুমি চিহ্নিত করতে পারেনি মিল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় লোকজন জানান, শহরের বাশখালা এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে পেপার মিল মালিকানাধিন রয়েছে একটি খেলার মাঠ। মাঠের একপাশে মূল কারখানা ও অন্য তিন পাশে রয়েছে মিলের বেশ কয়েকটি আবাসিক কোয়ার্টার। ১৪০ একর ভূমি নিয়ে ১৯৭৭ সালে ছাতকে বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন শুরু করে সিলেট পাল্প এন্ড পেপার মিল।  এ কোম্পানিটি লোকসান মুখী হয়ে ২০০২ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। ২০০৪ সালে ৪ দলীয় জোট সরকারের সময়ে মিলটি প্রাইভেট খাতে ছড়ে দেয়া হয়। ৪২ কোটি টাকায় আব্দুল মাতলুব আহমেদের নিটল-নিলয় গ্রুপের কাছে বিক্রি করা হয় এ মিলটি। এর পর থেকে মিলের মাঠে কোন খেলাধুলার আসর না বসলেও স্থানীয়রা এখানে খেলাধুলা করে আসছে নিয়মিত। সম্প্রতি ওই মাঠ সহ আশপাশের ভুমিতে টায়ার কারখানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিটল-নিলয় গ্রুপের পক্ষে ভুমি চিহ্নিতকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। টায়ার কারখানা স্থাপনের বিষয়টি জানাজানি হলে বাশখালা গ্রামের মানুষের মধ্যে সৃষ্ট হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গ্রামবাসীর দাবী পেপারমিল প্রতিষ্ঠার সময় বাশখালাসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের বহুভুমি অধিগ্রহন করে নেয় বিসিআইসির এ প্রতিষ্ঠান । ওই সময় অধিগ্রহকৃত এসব ভুমির চিহ্নিত করেনি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ ভুমি মালিকদের ভুমি চিহ্নিত না করেই নিটল-নিলয় গ্রুপের কাছে মিলটি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। বুধবার সকালে অর্ধশতাধিক পুলিশ ও আনসার নিয়ে ওই ভুমি চিহ্নিত করতে সরজমিনে যায় নিটল  মিল কর্তৃপক্ষ। গ্রামবাসীকে অবগত না করেই ভুমি চিহ্নিত করতে গেলে গ্রামের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় তীব্র উত্তেজনার। গ্রামবাসীর মতে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় মিলের ভুমির সাথে তাদের ভুমিও দখল করতে চাচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষ। গ্রামের মানুষের সাথে আলোচনা না করে অসৎ উদ্দেশ্যে মিল কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ দিকে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মিলের এসব ভুমির জটিলতা নিয়ে একটি রীট আবেদন ও রয়েছে।(নং ৩৪৪৫/১৩)। এ রীটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর তারিখের আদেশে ১৩.৫৭ একর ভূমিতে অবকাঠামো নির্মাণ বারণ করা হয়েছে। 

এ আদেশের মধ্যে কুমনা ও পুর্ব কামারগাও মৌজার ৪১ টি দাগে ১৩.৫৭ একর ভূমি। মিলের কয়েকটি স্থানে হাইকোর্ট আদেশের সাইনবোর্ড বোর্ড এখনো ঝুলছে। মিল কর্তৃপক্ষ এসব  ভূমি  চিহ্নিতকরণ কার্যক্রমে নামতে গিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। 

পরে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান, সেকেন্ড অফিসার হাবিবুর রহমান পিপিএম,  ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা সামছু মিয়া, সাবেক পৌর কাউন্সিলর সামছু মিয়া, সাবেক মেম্বার আব্দুস ছাত্তার, আওয়ামী লীগ নেতা বারিক মিয়া, উকিল আলীসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। এসময় মিলের পক্ষে ডিজিএম আমিরুল ইসলামসহ মিল কর্তৃপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় পরবর্তিতে গ্রামবাসীর সাথে আলোচনা করে এবং তাদের উপস্থিতিতে ভুমি চিহ্নিত করণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 

এ ব্যাপারে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, মিল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব ভূমি চিহ্নিতকরণের কাজ করছিলো। এতে বাশখালা গ্রামের মানুষ বাঁধার সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ভূমি চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।


সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স