বাংলার লোক সংগীতের ভান্ডারে অসংখ্য কালজয়ী গান রেখে গেছেন বাউল সাধক ও গীতিকবি দুর্বিণ শাহ। তাঁর সৃষ্টিতে প্রেম, বিরহ, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনদর্শন মিশে তৈরি হয়েছে স্বতন্ত্র এক সংগীতধারা। ‘নির্জন যমুনার কূলে’, আমার অন্তরায় আমার কলিজায়’, নামাজ আমার হইলো না আদায়’ কিংবা ‘বন্ধু যদি হইতো নদীর জল’—এমন অসংখ্য গানের স্রষ্টা এই সাধকের ১০৫ তম জন্মবার্ষিকী ছিলো সোমবার।
এ উপলক্ষ্যে দুর্বিণ শাহ পরিষদ ও ভক্তবৃন্দের আয়োজনে দুর্বিণ শাহ জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। রাতব্যাপী দুর্বিণ শাহ রচিত গান নিয়ে হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহি উদ্দিন।
দুর্বিণ শাহ'র নাতি অনিক শাহ'র সভাপতিত্বে ও শিক্ষক অজয় পালের পরিচালনায় জ্ঞানের সাগর দুর্বিণ শাহ’র স্মৃতি চারণ করেন, প্রধান অতিথি ইউএনও মোহাম্মদ মহি উদ্দিন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ আলম, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সিবিএ- বি- ৮০ এর সাধারণ সম্পাদক শফি উদ্দিন, ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সামসুর রহমান বাবুল, লোক গবেষক জাকির শাহ প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন অজিত কুমার দাস।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নোমান ইমদাদ কানন, জাহিদ হাসান সোহেল, মুকুল দে, তমাল পোদ্দার, সেলিম মাহবুব, রহিম শাহ, কালা শাহ, বাউল শিল্পী শাহিনুর আলম সহ বাঊল শিল্পী ও দুর্বিণ শাহ’র ভক্তবৃন্দ।
কালজয়ী লোকগানের শ্রষ্টা দুর্বিণ শাহ ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ২ নভেম্বর সিলেটের ছাতক উপজেলার নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে টিলাটি দুর্বিণ টিলা নামে পরিচিত। তার বাবা সফাত আলী শাহ ছিলেন সুফি সাধক এবং মা হাসিনা বানু ছিলেন একজন পীর। আধ্যাত্মিক আবহে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়েই সংগীত ও সাধনার জগতে তার পথচলা শুরু হয়। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে একই ইউনিয়নের জোড়াপানি গ্রামের সরুফা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে ইংল্যান্ড যান দুর্বিণ শাহ। এসময় অন্যতম সফর সঙ্গী ছিলেন বাউলসাধক শাহ আবদুল করিম, সেখানে তাঁর গানের কথা ও সুরে বিমোহিত হয়ে সঙ্গীতপ্রেমীরা তাঁকে ‘জ্ঞানের সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
বাউল কবি দুর্বিণ শাহ ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৫৭ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার রেখে যাওয়া গান ও সুর বাংলার লোকসংগীতের ঐতিহ্যে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।




ছাতক প্রতিনিধি



