মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

পরীক্ষা কেন্দ্রে এআই প্রযুক্তি, সিলেটের চার শিক্ষার্থীর চমক

  • প্রকাশের সময় : ০৩/১১/২০২৬ ০৯:৫৯:৫৫
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
10

প্রেরণাটা তারা পেয়েছিলেন কভিড-১৯ মহামারির পর। যখন বিশ্বজুড়ে অনলাইন শিক্ষা ও ডিজিটাল মূল্যায়নের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারপরও অনলাইনে পরীক্ষার্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষার নিয়ম অনুসরণ ও মূল্যায়নের ওপর আস্থা বজায় রাখা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতা থেকে চিটলক তৈরির অনুপ্রেরণা পান সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চার তরুণ শিক্ষার্থী। তাদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মের নাম চিটলক।


প্ল্যাটফর্মটির লক্ষ্য, পরীক্ষার সময় সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্তকরণে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া এবং শিক্ষক ও পরীক্ষকদের জন্য পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণকে আরও কার্যকর করে তোলা। অবশ্য তারা বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে নয়, পরীক্ষার পরিবেশ ও মেধার মূল্যায়ন নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সেটা সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।


শিক্ষার্থীদের তথ্যমতে, একটি শ্রেণিকক্ষে ১০০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার দায়িত্বে থাকেন এক বা দুজন শিক্ষক। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ওপর সমানভাবে নজর রাখা, পরীক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা, পর্যবেক্ষণ করা ও সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করা শিক্ষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সে সুযোগে কিছু শিক্ষার্থীর অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ নিতে পারে আবার সৎভাবে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এ সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের লক্ষ্য এই চার শিক্ষার্থীর।


প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত থাকা চার শিক্ষার্থী হলেন– জুবায়ের রহমান চৌধুরী, ঐতিহ্য সরকার অতিব, আমানুর রহমান আমান ও সানদিদ হক চৌধুরী। তারা আট মাসের প্রচেষ্টায় চিটলক বানিয়েছেন। তারা কাজ করেছেন, সফটওয়্যার আর্কিটেকচার তৈরি, ডেভেলপমেন্ট ও টেস্টিং ধাপে। তাদের উদ্দেশ্য কেবল একটি অনলাইন পরীক্ষার অ্যাপ তৈরি করা নয়; বরং পরীক্ষার আয়োজন, পর্যবেক্ষণ, শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম বিশ্লেষণ এবং ফল ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা।


কীভাবে কাজ করে চিটলক


চিটলকের প্রযুক্তিগত কাঠামোয় ব্যবহার করা হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), কম্পিউটার ভিশন এবং অডিও বিশ্লেষণভিত্তিক প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের দৃশ্যমান আচরণ ও পরিবেশ থেকে সম্ভাব্য অনিয়মের সংকেত শনাক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে– ক্যামেরার মাধ্যমে মুখের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মাথার অবস্থান ও দৃষ্টির দিক বিশ্লেষণ, একাধিক মুখ শনাক্তকরণ, সম্ভাব্য নিষিদ্ধ ডিভাইসের উপস্থিতি শনাক্তকরণ এবং অস্বাভাবিক শব্দ বা কথাবার্তার সংকেত বিশ্লেষণ।


প্রকল্পটির রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন লিড আমানুর রহমান আমান বলেন, প্রত্যেক সৎ শিক্ষার্থীর একটি ন্যায্য ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষাব্যবস্থা প্রাপ্য আর এর মাধ্যমে আমরা সেটাই গড়ে তুলতে চাই। এর উদ্যোক্তারা মনে করেন, প্রযুক্তির সহায়তায় পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর করা গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বাড়াতে এবং প্রকৃত যোগ্যতার মূল্যায়নে সহায়তা করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির পাশাপাশি নৈতিকতা, সঠিক নীতিমালা এবং মানবিক বিচারবোধের ভূমিকাও অপরিহার্য।


প্রকল্পটির ডেভেলপমেন্ট লিড (ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ) ঐতিহ্য সরকার অতিব বলেন, এটি একটি ড্রিম প্রজেক্ট। আড্ডার টেবিলে জন্ম নেওয়া একটি ধারণা থেকে জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য, হ্যাকাথন পেরিয়ে আজ ইন্ডাস্ট্রির পথে, যা সত্যিই অসাধারণ।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স