সুনামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পৌর শহরের তেঘরিয়ার বাসিন্দা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), তাঁর ছেলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার পলি (৩৮), তাঁর ছেলে দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (২০), তাঁর মেয়ে সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬)। এছাড়া, দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ (২১), ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ (২১) এবং গোলাপগঞ্জের বাদেশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকবির রহমান তানহির (২০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় আনার কিছু সময় পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পরবর্তীতে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রিন্সের পরিবারের লোকজন ও বন্ধুবান্ধবরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালান।
পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে প্রিন্সকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি পুলিশ দলকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ ও মারপিট করেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা চালান প্রিন্স।
এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই (নিঃ) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতের সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।




সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি



