প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, বৃষ্টির মুগ্ধতা আর বাঙালির চিরায়ত ঋতুভিত্তিক সংস্কৃতির আবহে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম টিলাগড় ক্যাম্পাসে ‘বর্ষা উৎসব ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাফিজ মজুমদার ট্রাস্টের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম টিলাগড় ক্যাম্পাসের আয়োজনে বৃহস্পতিবারে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে প্লেগ্রুপ থেকে কেজি-২ পর্যন্ত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, শিক্ষকদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা এবং অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে করে তোলে আনন্দঘন ও স্মরণীয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কলার্সহোম টিলাগড় ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন (আরণ্যক শামছ) এবং একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর সুমিত্রা মজুমদার। মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত করে তোলেন শিক্ষিকা মোমিতা সিনহা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার বার্তা দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন (আরণ্যক শামছ) ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর সুমিত্রা মজুমদার বৃক্ষরোপণে অংশ নেন। এ সময় সহযোগিতা করেন কুদসিয়া মিস, দিপালী মিস, তাম্বি মিস সহ আরও অনেকেই । এরপর প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন (আরণ্যক শামছ) তাঁর মূল্যবান বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু করেন মূল সাংস্কৃতিক পর্ব।
বর্ষার আবহ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে সাজানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্লেগ্রুপ, কেজি-১ ও কেজি-২-এর ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা দলীয়ভাবে অংশ নেয়। এত অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের সুন্দর সমন্বয়, মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং প্রাণবন্ত পরিবেশনা উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে।
শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল—‘আনন্দলোক’, ‘মুক্ত মালার ছাতি মাথায়’, ‘আল্লাহ মেঘ দে’, ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’, ‘আয় বৃষ্টি ঝেঁপে’, ‘বৃষ্টি এলো কাশবনে’, ‘বৃষ্টি তুমি চলে যাও’, ‘ঝড় এলো এলো ঝড়’, ‘ধিগ না ধাতি না’ এবং ইংরেজি ছড়া ‘I Hear Thunder’। গান, নৃত্য ও ছড়ার এই সম্মিলিত পরিবেশনা বর্ষা উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল দুই ক্ষুদে শিক্ষার্থীর একক পরিবেশনা। প্রথম ভট্টাচার্য একক গান এবং দেবস্মিতা কুড়ি একক নৃত্য পরিবেশন করে সবার প্রশংসা অর্জন করে। এত অল্প বয়সে তাদের আত্মবিশ্বাস ও মঞ্চে সাবলীল উপস্থিতি ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়।
শিক্ষকদের অংশগ্রহণেও ছিল আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ। ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ গানে একসঙ্গে পরিবেশন করেন মোমিতা মিস, সীমা মিস, দীপালি মিস, শিবানী মিস, রাহি মিস, নিবেদিতা মিস এবং অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন ( আরণ্যক শামছ)। শিক্ষকদের এই সম্মিলিত পরিবেশনা দর্শকদের মাঝে বিশেষ আনন্দের সৃষ্টি করে।
এছাড়া তিনজন শিক্ষক একক সংগীত পরিবেশন করেন। মোমিতা সিনহা মিস পরিবেশন করেন ‘আজি শ্রাবণঘন’, সীমা মিস ‘নীল অঞ্জন ঘন’ এবং বিনতী মিস ‘পাগলা হাওয়ায়’। তাদের একক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।
আবৃত্তি পর্বেও ছিল বিশেষ আয়োজন। কুদসিয়া আক্তার মিস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আষাঢ়’ কবিতা এবং নিবেদিতা পাল মিস অধ্যক্ষ স্যার রচিত ‘এই শ্রাবণে’ কবিতা আবৃত্তি করেন। তাদের আবৃত্তি অনুষ্ঠানে সৃষ্টি করে এক মনোমুগ্ধকর আবহ।
এবারের বর্ষা উৎসবের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল—স্কলার্সহোম টিলাগড় ক্যাম্পাসে এই প্রথম অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদের সন্তানরা সরাসরি মঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘বর্ষা উৎসব ২০২৬’ হয়ে ওঠে স্কলার্সহোম টিলাগড় ক্যাম্পাসের একটি স্মরণীয় আয়োজন।
প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার এই অপূর্ব মিলন শুধু একটি উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার একটি সুন্দর সুযোগ তৈরী করবে।




প্রতিদিন ডেস্ক



