সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন একটি শৌচাগারের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকার আমলে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই শৌচাগারটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। বর্তমানে আগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নিয়মিত টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নতুন করে শৌচাগার পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রায় ৩-৪ মাস আগে শৌচাগারটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে একজন সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, ওই সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর তাকে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে সিলেট মহানগর বিএনপির এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অন্য এক নেতার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এভাবে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির কাছে পাঠানো হলেও বিষয়টির কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তার।
অভিযোগকারী বলেন, একজন প্রতিবন্ধী হিসেবে তিনি নিয়ম মেনে কাজের সুযোগ পাওয়ার আশায় আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টির সমাধান না হয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ পাওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন।
অভিযোগকারীর প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতালের একটি শৌচাগার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেতে যদি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কোথায়?
এ ঘটনায় সিলেট মহানগর বিএনপির এক নেতা ও হাসপাতালের এক সিনিয়র কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শৌচাগারটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কীভাবে দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো টেন্ডার বা অনুমোদন হয়েছে কি না এবং অভিযোগকারীর আবেদন কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



