শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন

ফেঞ্চুগঞ্জে ধীর গতিতে কমছে কুশিয়ারার পানি

  • প্রকাশের সময় : ২৫/০৬/২০২৪ ১১:০৮:৪১
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
65

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তবে পানি সামান্য করে কমতে শুরু করেছে। এদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে এখনো বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬ টায় কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে  বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, এর আগে রবিবার (২৩ জুন) কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার  ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।


উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার  ৫ টি  ইউনিয়নের ২৫টির বেশি গ্রামে বন্যাপ্লাবিত মানুষের সংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। 


এদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চলছে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্র থাকা ২ হাজার বন্যার্তদেরকে প্রতিদিন দুই বেলা করে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার সরবরাহ করছেন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও সহায়তা দেয়া হচ্ছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যা কবলিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাব। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যেসব ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় কম। বিশুদ্ধ পানির সংকটও রয়েছে এলাকাগুলোতে। গবাদি পশুর খাবার নিয়েও বিপাকে রয়েছেন অনেকে।


বন্যার পানি ধীরে নামার কারণ হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড  সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন- ফেঞ্চুগঞ্জের উজানে রয়েছে জুড়ী নদী।  এছাড়া মনু নদীও কুশিয়ারার শেরপুরে এসে যুক্ত হয়েছে। ফলে কুশিয়ারা নদীর  পানি নামছে ধীর গতিতে। তাছাড়া ডাউন-স্ট্রিম এর প্রায় সব এলাকা প্লাবিত। এটাও বন্যার  পানি ধীর গতিতে নামার একটি কারণ। তবে বৃষ্টিপাত না হলে ও  সিলেট অঞ্চলে প্রতিদিন রোদ হলে বন্যার পানি কমা অব্যাহত থাকবে।


ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা প্রিয়াংকা বলেন, উপজেলা সদরের পার্শ্ববর্তী কুশিয়ারা নদীর পানি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উপজেলাজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তবে বন্যার্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই দুর্ভোগ তো কিছুটা হবেই।


তিনি আরও বলেন, অন্যান্য উপজেলার চেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জের পানি অনেক ধীরগতিতে নামছে। আমরা আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। যখন যেখানে জেনেছি মানুষজন পানিবন্দি আছেন সেখানে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। 


সিলেট প্রতিদিন / টিবি


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স