রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

এখনও পাঠদান বন্ধ বড়খাল বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজে!

  • প্রকাশের সময় : ০৩/০৩/২০২২ ০৭:২৭:৫৬
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
13

সরকারি ঘোষনা অনুযায়ী গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। করোনাকালে দীর্ঘদিন পর প্রতিষ্ঠান চালু হলেও এখন পর্যন্ত বড়খাল বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও পৌরনীতির বিষয় ভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে শুরু থেকেই এসব বিষয় পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নে বড়খাল বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজের অবস্থান। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র দশম শ্রেণিতেই পড়াশোনা করছে ২৬০ শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সকাল এগারোটায় সরেজমিনে বড়খাল বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজে গিয়ে দশম শ্রেণীর বিষয়ভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ পাওয়া গেছে। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠান চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত একদিনও বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও পৌরনীতির ক্লাস হয়নি।

বড়খাল বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজের ক্লাস রুটিন অনুযায়ী দশম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ে পাঠদানের দায়িত্বে আছেন প্রভাষক তাইজুল ইসলাম, ইংরেজি বিষয়ে প্রভাষক আবু তাহের, পৌরনীতির  সহকারী অধ্যাপক জহিরুল হাসান ভূঁইয়া ও ইতিহাস বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহাম্মদ ভুঁইয়া।

শিক্ষার্থীরা জানায়, এই চারজন শিক্ষকের মধ্যে কেউই এখন পর্যন্ত একদিনও পাঠদানে আসেনি। এছাড়াও কলেজ শাখার একাদশ শ্রেণীর ওরিয়েন্টেশন ক্লাসও হয়নি। গত ২ মার্চ বুধবার একাদশ শ্রেণীর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস হওয়ার কথা ছিলো। ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কলেজের শিক্ষা জীবনের প্রথম দিনেই মন খারাপ করে বাড়িতে ফিরে গেছে।

বড়খাল বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নজির আহাম্মদ বলেন, নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী কলেজ শাখার শিক্ষকদেরকেও স্কুল শাখার কার্যক্রম পরিচালনা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আমার কলেজ শাখার চারজন শিক্ষক দশম শ্রেণীর বিষয় ভিত্তিক পাঠদান করেছেন না। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে  তাদেরকে প্রথম বার কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয় কিন্তু গ্রহণ করেনি। পরে দ্বিতীয় বার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

শোকজ প্রাপ্ত চার শিক্ষকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তারা শোকজ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'আমরা বন্ধের আগে মাধ্যমিকের ক্লাস নিয়েছি। প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সিদ্ধান্ত ছিলো প্রতিষ্ঠান খোলার পর আমাদেরকে নতুন রুটিন করে দেওয়া হবে। আমরা নতুন রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নেব। কিন্তু ২২ তারিখে প্রতিষ্ঠান খোলার পর এখন পর্যন্ত কোনো নতুন রুটিন করে দেওয়া হয়নি। উল্টো হঠাৎ করে আমাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা নোটিশের জবাব দেব।'

দোয়ারাবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান ভুঁইয়া জানান, 'কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদানের পরেও যদি ক্লাস না নিয়ে থাকে তবে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে আলাপ করে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'


সিলেট প্রতিদিন / এমআরএম


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স