বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন

যানবাহন আর অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য সিলেটের সার্কিট হাউস এলাকা

  • প্রকাশের সময় : ২৮/০২/২০২২ ১০:১০:১৯
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
21

এনামুল কবীর :: গাঁজার গন্ধ আর যত্রতত্র মূত্রত্যাগ, বাস-ট্রাক ও লেগুনার এলোমেলো পার্কিং, সন্ধ্যার পর ভাসমান পতিতাদের চলাচল এবং কাস্টমার নিয়ে টানাটানি- সিলেটের সার্কিট হাউস এলাকার প্রতিদিনের চিত্রটা এমনই। এসব নিয়ে প্রায়ই লেখালেখি হয়, সিলেট সিটি করপোরেশন বা সিলেট মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখার আশ্বাসও প্রদান করেন। দেন আরও নানা পরামর্শ। কিন্তু প্রকৃত চিত্রের তেমন কোন অদলবদল হয়না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে নাগরিক জীবনে। যানজটতো থাকেই, সুরমাপারের ওয়াকওয়েতে যারা একটু অবসর কাটাতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য পরিবেশটা রীতিমতো অস্বস্তিকরতো বটে, চরম হতাশারও।

সিলেট মহানগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থাপনায় সমৃদ্ধ কিনব্রিজের উত্তরপ্রান্ত। ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়ি, দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সার্কিট হাউস, কিনব্রিজের অন্যতম প্রধান একটা অংশ, চাঁদনিঘাটের সিঁড়ি, রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য ঐতিহাসিক সারদা হল, পীর হবিব পৌর পাঠাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান এই এলাকায়। তাছাড়া এর মাত্র কয়েক গজের মধ্যেই অবস্থান সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানার।

অথচ এ এলাকাটিই সিলেট মহানগরীর সবচেয়ে ভয়ংকর আর বিশৃঙখল এলাকা হিসাবে দিনে দিনে কুখ্যাত হয়ে উঠেছে। কি হয়না এখানে? চুরি ছিনতাই, পতিতাবৃত্তি, নেশার আড্ডাসহ আরও অনেক কিছুই চলে এ এলাকায়। মোটামুটি অপরাধীদের আস্তানা বলেই চিহ্নিত এখন এলাকাটি।

প্রতিদিন কিনব্রিজ মোড় থেকে সুরমার তীর পর্যন্ত বিশাল রাস্তার দু’দিকে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। এসব গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে থাকছে রিকশা আর ভ্যান ওয়ালারা। যানবাহনে বসে নিরন্তর চলে মদ গাঁজা আর হেরোইন সেবন। নেশাখোরদের আড্ডা চিৎকার চেঁচামেচি শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যায় প্রায়ই।

এদের মধ্যেই আবার থাকে ছেচড়া চোর ও ছিনতাইকারী। সুযোগ বুঝে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ছে পথচারীদের উপর। ছিনিয়ে নিচ্ছে, মোবাইল সেট, ঘড়ি, নগদ টাকা, স্বর্নের চেন ইত্যাদি। প্রায়ই ঘটছে এসব ঘটনা। কখনো কখনো তা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ওদিকে আর যাননা অযথা হয়রানির ভয়ে। আর শিশু-কিশোরদেরতো প্রায়ই ডান্ডির ধোঁয়া গিলতে গিলতে এ এলাকায় আড্ডাবাজিতে মত্ত অবস্থায় দেখা যায়।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকার অপরাধীরা গা ঢাকা দেয় এই এলাকায় এসে।

এদিকে, সার্কিট হাউসের পশ্চিম পাশের ফুটপাত দিয়ে এখন চলাফেরাই দায়। প্রায়ই এখানে বসে দিনদুপুরে অনেক পথচারী এবং ঠেলা ভ্যান ও রিকশাচালকদের অনায়াসে মূত্রত্যাগ করতে দেখা যায়। রাতের আঁধারে তারচেয়েও বড় কাজও তারা সেরে ফেলছেন রাস্তায়। আর তাই দুর্গন্ধে এদিক দিয়ে চলাফেরাই দায়।

এতে চরম বিরক্ত নগরবাসী। বিশেষ করে বিকেলে যারা সুরমাপারের ওয়াকওয়েতে বেড়াতে আসেন, সুরমার শীতল হাওয়ায় প্রাণ জুড়ানোর লোভ আর চা’র আড্ডায় মেতে উঠা তারুণ্য এসব নিয়ে চরম বিরক্ত। তাদের মতে সিটি করপোরেশন এবং সিলেট মহানগর পুলিশ উদ্যোগ নিলে জায়গাটি সিলেটবাসীর জন্য অবসর কাটাানোর আদর্শ স্থান হয়ে উঠতে পারতো।

বছর কয়েক আগে সিটি করপোরেশন অভিযান চালিয়ে জায়গাটি থেকে ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন উচ্ছেদ করলেও তা বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। আবার ফিরে গেছে আগের অবস্থায়। এমনকি নগর পরিবহনের বাসগুলোও পার্কিং করা হচ্ছে এই এলাকায়।

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে তালতলা ভিআইপি রোড এলাকার স্কুল শিক্ষক জামাল আহমদ বলেন, এমনিতে সিলেট শহরের ভেতরে অবসর বিনোদনের খুব একটা ভালো ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় এই জায়গাটি কেবল সিসিক আর পুলিশ প্রশাসনের হেলাফেলায় অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে সঠিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

বিষয়টি নিয়ে মাসকয়েক আগে সিলেট প্রতিদিনের সাথে আলাপকালে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ( মিডিয়া ) বিএম আশরাফ উল্যা তাহের এই এলাকায় একটি পুলিশ বক্স স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে জানালেও এখনো তেমন কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

আর সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান ব্রিজের নিচে অপরাধীদের আড্ডা নিয়ন্ত্রণে তারের নেট দিয়ে ঘিরে ফেলার একটা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বললেও সেই উদ্যোগও এখনো নেয়াই হয়নি।



সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স