সাম্প্রতিক কালে সিলেটে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হচ্ছে অবৈধ ট্রাভেলস এজেন্সী। এসব অবৈধ ট্রাভেলস এজেন্সী ধারা প্রতারণার শিকার হয়ে হাজারো মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
আর সিলেট প্রবাসী অধ্যুসিত এলাকা হওয়াতে এই অঞ্চলে ব্যাঙের ছাতার মতো ট্রাভেলস এজেন্সী গজিয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকে। তাদের মতে সিলেটের মানুষের বিদেশের প্রতি জোক বেশি হওয়াতে অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের পছন্দের প্রথম তালিকায় রয়েছে সিলেট। প্রতারকরা বিভিন্ন উপায়ে সহজ-সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়ার অভিযোগ ক’দিন পর পরই মিডিয়া আসছে।
সর্বশেষ গত, শনিবার ( ২৬ ফেব্রুয়ারি ) তেমনি একটি ট্রাভেলস মালিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারিতরা ঐ প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। জানা গেছে, নগরীর জিন্দাবাজারের হক সুপার মার্কেটের আমিন রহমান ট্রাভেলসের মালিক আমিন রহমান রোমানিয়া পাঠানোর নামে প্রায় ৩শ’ জন ইউরোপযাত্রীর পকেট কেটে প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে তার কাষ্টমারদের মধ্যে।
শুধু আমিন রহমান ট্রাভেলসই নয়, সিলেট নগরীতে ব্যাঙের ছাতার মতো এমন আরও অসংখ্য ট্রাভেলস এজেন্সি গজিয়ে উঠেছে। এসব এজেন্সির অধিকাংশেরই কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। তাদের ব্যবসার ধরণটা হচ্ছে, অন্য এজেন্সির সাব অ্যাজেন্ট হিসাবে কাজ করার। অনেকের আবার তাও নেই। লিখিত কোন চুক্তি নেই, কেবল মৌখিক অনুমতি নিয়েই তারা ইচ্ছে মতো নাম ব্যবাহর করে লোকজনকে বিদেশ পাঠানোর নামে ঠকিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ধান্দাটা এমন, একটা ভিসা বের করলে বা হলে তার বিপরীতে অন্তত শ’খানেক মানুষের কাছ থেকে সেটি দেখিয়ে অর্থ আদায়।
এরপর ‘হচ্ছে’ বা ‘হবে’র খাঁড়ায় পড়ে দিনের পর দিন গড়াগড়ি খাওয়া। সিলেট নগরীর তালতলা ভিআইপি রোডের সুরমা টাওয়ার, বন্দর বাজারের রংমহল টাওয়ার, জিন্দাবাজারের ইদ্রিস মার্কেট, হক সুপার মার্কেট, মিতালি ম্যানশন, চৌহাট্টা এলাকার বিভিন্ন মার্কেট, জল্লারপার রোডের মার্কেটগুলোসহ নগরীর প্রায় সব মার্কেটেই এসব অবৈধ ট্রাভেলস ব্যবসায়ীর অবস্থান। শুধুই কি সিলেট মহানগরী? তাদের অবস্থান সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা সদর পেরিয়ে গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের বৈধ কোন কাগজপত্র আছে কি না, মার্কেটগুলোর মালিকপক্ষ সেটি দেখার প্রয়োজনই মনে করেন না অধিকাংশ ক্ষেত্রে।
কেউ কেউ কাগজ চাইলে প্রতারক ব্যবসায়ীরা ঐ অমুক ট্রাভেলসের সাব অ্যাজেন্ট বললেই ঘর ভাড়া পেয়ে যাচ্ছেন। তারপর এসব অবৈধ এজেন্সির মালিকদের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার পালা শুরু হয় সাধারণ বিদেশ যাত্রীদের। তারা গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে দেন নিজেদের লোক। বিশেষ কমিশনের লোভে গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে আগ্রহী তরুণ যুবকদের সহজেই ইউরোপ আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া বা এশিয়ার বিভিন্ন ধনী দেশে পাঠানোর ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর কেউ কেউ বিদেশ পাঠানোর নামে তাদের দালাল চক্রের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
এরকম প্রতারণার শিকার একজন ভূক্তভোগী জানান, তিনি রোমানিয়ায় যাওয়ার জন্য কয়েক কিস্তিতে মোট সাত লাখ টাকা দিয়েও যেতে পারেননি। এখন ওই এজেন্সির মালিকের মোবাইল নাম্বার বন্ধ রেখে বর্তমানে লাপাত্তা রয়েছেন। টাকা খুইয়ে তিনি বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এরকম প্রতারকদের খপ্পর থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সহযোগীতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



