মুনায়েম মুন্না :: দখল আর যানজটে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে সিলেট মহনগরীর রেলগেইট থেকে বাবনা পয়েন্ট ও কিনব্রিজ মোড় পর্যন্ত চলাচলকারী ও ব্যবসায়ীদের। দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান যে হয়না এমন না, হয়। তবে তা টিকে থাকেনা। পর মুহুর্তেই আবার দখল হয়ে যায়। এই উচ্ছেদ আর দখলের খেলা চলছে অনেক দিন ধরে।
সম্প্রতি ( রোববার ) এই এলাকায় অভিযান চালায় সিলেট সিটি করপোরেশন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের সাথে ছিল ভোক্তা অধিকার অধিদফতর। অভিযানে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, কয়েকটি দোকানে জরিমানাও করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদফতর। তবে তার পরের ঘটনা সেই আগের মতই। অভিযান শেষ হতে না হতেই তা আবার দখল হয়ে গেছে। পান সিগারেট চা আর সব্জি ওয়ালারা দিব্যি তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন।
আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে প্রবেশের অন্যতম পথ হচ্ছে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন এলাকা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রেলপথে স্টেশনে নেমে কেউ কাজিরবাজার ব্রিজ হয়ে আর কেউবা আবার কিনব্রিজ হয়ে প্রবেশ করেন নগরীতে। তাদের জন্য নিদারুন যন্ত্রনার কারণ, রাস্তা আর ফুটপাত দখল করে রাখা অবৈধ ব্যবসায়ীরা। তারা ফুটপাতসহ রাস্তার প্রায় অর্ধেক দখল করে প্রতিদিনই বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন। সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত, এমন কি কখনো কখনো তা গভীর রাত অবদি চলতে থাকে। তাই প্রতিদিন সকাল থেকে রেলগেইট থেকে বাবনা পয়েন্ট, কিনব্রিজ মোড় পর্যন্ত যান আর জনজটে ঠাসাঠাসি থাকে।
এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারেন না। প্রায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় কখনো কখনো। শুধু তাই নয়, রাস্তার প্রায় অর্ধেক দখল করে রাখায় চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটে নানা দুর্ঘটনা। সাধারণ মানুষের দাবির মুখে প্রশাসন প্রায়ই অভিযান চালায়। জরিমানা এবং উচ্ছেদও করা হয় কখনো কখনো। তবে খুব বেশী সময় তা আর স্থায়ী হয়না। ঐ এলাকার একজন স্থায়ী ব্যবসায়ী জানালেন, একবায় অভিযান অয় আর অন্যবায় দখল। এতে আমরার পেটো লাথও পড়ের ভাই। আর হাটতে পারাতো প্রায় অসম্ভব।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ঐ এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এই দখলবাজীর সাথে স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র জড়িত। বিশ্বনাথ থেকে আসা আহমদ আলী জনান, প্রতিদিন সকাল ১০টায় আমার অফিস। বাড়ি থেকে আসতে সময় লাগে প্রায় চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট ৷ কিন্তু এই জায়গায় এসে তার চেয়েও বেশি সময় লেগে যায়। এ কারণে যথাসময়ে অফিসে যেতে পারি না।
এ ব্যাপারে প্রশাসন এবং স্থানীয়দের আরও কঠোর ভূমিকায় দেখতে চান সচেতন মহল।




মুনায়েম মুন্না


