মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন

বিসিবি সাকিবের কাছে এক বছরের পরিকল্পনা চায়

  • প্রকাশের সময় : ২৮/০২/২০২২ ০৬:৩৮:২৫
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
9

টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত খেললেও সাকিব অনেকদিন থেকে অনিয়মিত টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনায়। টেস্টের সাবেক নম্বর ওয়ান অলরাউন্ডার সাকিবের অগ্রাধিকার লিস্টে সবার পরে টেস্ট ক্রিকেট - এমনটা অনেকবার বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের কর্তাব্যক্তিরা। মার্চে বাংলাদেশ টেস্ট খেলতে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এদিকে সাকিব আইপিএল নিলামের আগেই বোর্ডে জমা দিয়েছিলেন দল থেকে অব্যাহতির চিঠি। আগামী ছয়মাস টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চান না তিনি। নেপথ্যের কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল আইপিএলে খেলার কথা। কিন্তু দল না পাওয়ায় এবার সাকিবের খেলা হচ্ছে না আইপিএল। তাই নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে সাকিবের টেস্ট ভাবনা নিয়ে।

সাকিব আল হাসান সর্বশেষ টেস্ট খেলেন দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে। নিউজিল্যান্ডে প্রথম জয় পাওয়ার সেই ঐতিহাসিক সিরিজে সাকিব অনুপস্থিত ছিলেন দল থেকে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ছুটি নেওয়ায়। এমন ছুটি অবশ্য প্রথমবার নেননি সাকিব। নিউজিল্যান্ড সফর থেকে এভাবে ব্যক্তিগতভাবে ছুটি নেওয়াটা সাকিবের ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো। এর আগে ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়ে টেস্ট ম্যাচ না খেলার প্রথম ঘটনাটি সাকিব ঘটান ২০১৮-১৯ এর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময়। এর পর গতবছর দ্বিতীয়বার তিনি শ্রীলংকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ছুটি নেন তার আইপিএল কমিটমেন্টের জন্য।

আইপিএলের ১৫তম আসরের মেগানিলাম অনুষ্ঠিত হয় ফেব্রুয়ারির ১২ ও ১৩ তারিখে। এই নিলামের বেশ আগেই সাকিব বিসিবিতে চিঠি মারফত আগামী ছয় মাস টেস্ট ক্রিকেট খেলায় নিজের অনাগ্রহের কথা জানান। সে হিসেবে সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকছেন না, এটাই অনুমিত ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায় আইপিএলের নিলামে সাকিব দল না পাওয়ায়। এখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে বিসিবি নতুন করে জানতে চায়, সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলবেন কি না। সাকিবের টেস্ট ভাবনা নিয়ে জানতে বিসিবি সভাপতি কয়েকদিনের মধ্যেই তার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে আলোচনায় সাকিবের কাছে তার গোটা বছরের টেস্ট ভাবনাই জানতে চাওয়া হবে। সাকিবকে কোন সিরিজে পাওয়া যাবে আর কোথায় সাকিব খেলবেন না- সে সিদ্ধান্তের ভার সাকিবের ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

সাকিবের বিষয়ে তিনি বলেন, 'এখানে বাছাই করে খেলা ও বাদ দেওয়ার বিষয় নেই। তার কোনো সমস্যা থাকতেই পারে। তাই তার দিকটি বিবেচনা করে আমরা তাকে জিজ্ঞেস করব যে, কোন ফরম্যাটে ঠিক কতগুলো ম্যাচ সে খেলতে পারবে।'

বিসিবি গতবছর থেকেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তির বেলায় আলোচনা করে নেয় ,তারা কোন সিরিজে খেলবে আর কোনটায় খেলতে চায় না। বিসিবি কাউকে খেলার জন্য জোর করবে না। জালাল ইউনুস আরও বলেন, 'কেউই সব ম্যাচ খেলতে বাধ্য নয়। খেলোয়াড়দের বিসিবি চাকুরে হিসেবে মনে করে না। তারা প্রত্যেকে এর স্টেকহোল্ডার, তাদের স্বাধীনতা আছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, কতগুলো ম্যাচ তারা খেলবে।'

সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায় ২০১৮ এর পর থেকে তিনি টেস্ট ক্রিকেটকে সবচেয়ে কম গুরুত্ব দিচ্ছেন। ২০১৮ এর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর থেকে মাত্র ৩০ শতাংশ টেস্টে সাকিব খেলেছেন। ইনজুরি, নিষেধাজ্ঞা ও ছুটিই সাকিবের টেস্টে অনুপস্থিতির কারণ।


সিলেট প্রতিদিন / এমআরএম


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স