শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন

উজির হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস পরিকল্পনামন্ত্রীর

  • প্রকাশের সময় : ২৫/০২/২০২২ ০৮:০৮:৩৫
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
11

শান্তিগঞ্জে পুলিশের নির্যাতনের ঘটনায় নিহত উজির মিয়ার বাড়িতে তার পরিবারের স্বজনদের দেখতে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের বাগেরকোনা শত্রুমর্দন গ্রামে যান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি।

বাড়িতে গিয়ে উজির মিয়ার নিহতের ঘটনা ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যুর বর্বর কাহিনী শুনার পর তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রতিবেদনে যদি পুলিশের নির্যাতনে উজিরের মৃত্যুতে পুলিশ জড়িত থাকার আলামত পাওয়া যায় তাহলে সে আইনের লোক বা যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তদন্তে কোন ধরনের কারচুপি করার সুযোগ নাই যা সত্য তাই প্রমানিত হবে। আপনারা নিশ্চিত থাকুন এবং ধৈর্য্য ধরুন আমি আপনাদের প্রতিনিধি এলাকার সন্তান হিসেবে বলছি এই বিষয়ে প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই এলাকায় নিয়ে আসব। বিচারের ক্ষেত্রে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য রেজাউল আলম নিক্কু, পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত রাজনৈতিক সচিব হাসনাত হোসেন, পশ্চিম পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক, শান্তিগঞ্জ থানার ওসি কাজী মুক্তাদীর হোসেন, উপজেলা তাতীলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক বদরুল আলম টিপু, যুগ্ন আহবায়ক মনসুর আলম সুজনসহ এলাকার সহস্ত্রাধিক জনতা।

উল্লেখ্য যে, উজির মিয়ার পরিবারের লোকজন জানান, বিগত ১০ থেকে ১২দিন আগে একই উপজেলার দরগাপাশা এলাকা থেকে একটি গরু চুরি হয়ছিল। এতে পুলিশ এই চুরির অভিযোগে পাগলা এলাকার শত্রুমর্দন বাগেরকোনা গ্রামের উজির মিয়াকে ৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে শান্তিগঞ্জ থানার এস আই দেবাশীষ, এস আই পার্ডন কুমার সিংহ ও এস আই আক্তারুজ্জামান তাকে নিজ বাসা থেকে সন্দেহ মূলক আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পরে গুরুতর আহত উজির মিয়াকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর একসপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর আত্মীয় স্বজনকে দেখানোর জন্য উজির মিয়াকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে নিয়ে আসার পর অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে নিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

মৃতের খবর পেয়ে বিগত ২১ ফেব্রুয়ারি তাৎক্ষনিকভাবে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারে রাস্তার মধ্যে নিহত উজির মিয়ার লাশ রেখে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জ সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক ৩ঘন্টা অবরোধ করে রেখেছিলেন এলাকাবাসী।

পরে বিকালে সুনামগঞ্জের জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আনোয়ারুল হালিম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবু সাঈদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় সর্বোচ্চ বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ ভাঙ্গেন এলাকাবাসী। বর্তমানে জেলা প্রশাসক কর্তৃক ৩ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক ২টি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে উজির মিয়ার নিহতের ঘটনার তদন্ত চলছে।


সিলেট প্রতিদিন / এমআরএম


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স