মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম:: জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ চান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীর সেনানী শাহ নুর মোহাম্মদ। তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম পশ্চিম পাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
মৃত শাহ নাহার মোহাম্মদ ও অছিরা বিবির এই কৃতি সন্তান জন্মগ্রহণ করেন ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের পহেলা জানুয়ারি। শতবর্ষী শাহ নূর মোহাম্মদ ১৯৪২ সালে বৃটিশ রয়েল সেনা বাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৩ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ট্রেনিং একাডেমিতে ইনস্ট্রাকটর ও হাবিলদার এবং পরে অনারারী ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ট্রেনিং শেষে তাকে ইতালিতে বদলী করা হয়। সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে জার্মানরা আত্মসমর্পণ করে। ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন।
যুদ্ধ শেষে বৃটিশ সরকার তাকে আমেরিকা ও বৃটেনে যাওয়ার প্রস্তাব করে। কিন্তু অসুস্থ মায়ের সেবা করার উদ্দেশ্যে সরকারের অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে আসার সময় বৃটিশ সরকার তাকে আত্ম কর্মসংস্থানের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে সম্মাননা সনদ প্রদান করে বিদায়ী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে দেশে পাঠায়।
সে সময় তিনি সড়ক পথে মিশর থেকে ইরাক পর্যন্ত আসেন। সেখান থেকে ফিলিস্তিনি মসজিদে আল আকসায় যান তিনি। সেখানে জোহরের নামাজ আদায় করেন সেখান থেকে মিশরের কায়রোতে গিয়ে পিরামিডে ভেতরে ঢুকে নীচে মুর্তি দেখেন। তিনি হযরত ইউসুফ (আ:)কে ফেলে দেয়া কুপে দুদিন চেষ্টার পর নেমে দেখে আসেন।
স্থল যুদ্ধে অংশগ্রহণের স্মৃতি স্মরণ করে শাহ নুর মোহাম্মদ ইতালির ট্রান্ট, বারী, বারলেতা ও রোম, নেপালের আগ্নেয়গিরি, মিলান, তরিন টাউনে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অন্যান্য ট্রেনিং সহ পারমাণবিক গ্যাস ছাড়ার ট্রেনিং গ্রহণ করেন। এসময় মুখে রেস বোটার লাগাতে হয় বলে জানান তিনি। এসময় অনেকের শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তিনি এক্ষেত্রে সফল ছিলেন বলে জানান বিশ্বজয়ী এই সেনা কর্মকর্তা। সেখানে তাকে সবাই 'বাঙ্গালী বাবু' বলে ডাকতেন।
পরবর্তীতে অবসর সময়ে তিনি ভারতের আসামে সরকারী ট্রান্সপোর্টে সহকারী স্টোর কিপার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট বৃটিশরা ভারত ছেড়ে দেয়ার পর কোম্পানীর কার্যক্রম আসাম থেকে শিলংয়ে বদলি করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি সিলেট জেলা স্বাস্থ্য সহকারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে সেটেলমেন্ট বিভাগে বেঞ্চ সহকারী হিসেবে নতুন চাকরিতে যোগ দেন। এর পরে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রসেস সার্ভার হিসেবে যোগদান করেন এবং পরে তাকে বিশ্বনাথে সার্কেল অফিসের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। পরে সেখান থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর নেয়ার পর তিনি সিলাম পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
শাহ নূর মোহাম্মদ বৃটিশ সেনা বাহিনীর সৈনিক হিসেবে ৩৯৪৫ স্টার ইতালি স্টার, ডিফেন্স মেডেল, ওয়ার মেডেল লাভ করেন। বর্তমানেও তিনি বৃটিশ আর্মির বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন।
২০১৬ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে জালালাবাদ সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তাছাড়া দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও মিন্টু চৌধুরী তাঁর বাড়িতে এসে দেখা করে শুভেচ্ছা উপহার দেন।
২০১৬ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে জালালাবাদ সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তাছাড়া দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও মিন্টু চৌধুরী তাঁর বাড়িতে এসে দেখা করে শুভেচ্ছা উপহার দেন।
শতায়ূ এই সৈনিক এখনো মুটামুটি হাঁটাচলা করতে পারেন। শেষ বয়সে শাহ নুর মোহাম্মদের চাওয়া তার পুত্র কন্যা ও নাতি-নাতনিদের সরকার যেনো ভালো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। তাছাড়া তিনি মৃত্যুর আগে একবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে চান। তিনি বলেন, জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুকে দেখার সুযোগ হয়েছে, এবার শেষ বয়সে একবার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাত চাই।




মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম



