এনামুল কবীর :: বয়স তার কতই বা হবে! মাত্র ৯ বা ১০ বছর। এমন বয়সে আর দশজন ছেলেমেয়ের সব ব্যস্ততা থাকে খেলাধুলা আর দুষ্টামিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু আব্দুল্লাহর মন চাইলেও তাদের মতো সে হইহুল্লোড় আর চেঁচামেচিতে যোগ দিতে পারেনা। পারবে কি করে? দারিদ্রতা তার কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে সংসারের জোয়াল। সেই জোয়াল টানতে টানতেই যাচ্ছে তার প্রতিটা দিন।
আব্দুল্লাহ হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার আলী আজগরের ছেলে। তবে এখন আর তারা লাখাই থাকেন না। সিলেট মহানগরীর কদতলী এলাকায় তারা ভাড়া বাসায় থাকেন। আব্দুল্লাহারা তিন ভাইবোন। তাদের মধ্যে ভাই দু’জন আর বোন একজন। সঙ্গে মা ও বাবা। এই পাঁচজনের সংসারের বোঝা টানতে একা পারেননা আলী আজগর। তাই স্কুলের বইপত্র একপাশে সরিয়ে রেখে আব্দুল্লাহর গলায় ঝুলেছে বাদামের ডিশ। চাই বাদাম- চিনাবাদাম বলতে বলতে গলা ছেড়ে সে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে সিলেট মহানগরীর অলিগলি। দুপুর দু’টা থেকে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত হাঁক ছেড়ে বাদাম বিক্রি করতে করতে তার আয় হয় দুই আড়াইশ’ টাকা। সেগুলো তুলে দেয় মা-বাবার হাতে। এতে তার ছাত্রজীবন ঝুঁকিতে পড়লেও মা বাবার মুখে হাসি ফুটছে। আর এতেই তৃপ্ত আব্দুল্লাহ।
সম্প্রতি এক বিকেলে কথায় কথায় এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে আব্দুল্লাহ জানায়, সে দুটি স্কুলে পড়ে। একটি কদমতলী এলাকার আরবান স্কুল। অপরটি কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই স্কুলের ছাত্র হলেও বর্তমানে কোন স্কুলেই পাঠদান চলছেনা। তাই কোন চাপও নেই আব্দুল্লাহর। এদিকে তার ভ্যানচালক বাবায় আয়রোজগারে সংসার আর চলছেনা। বাবা মার চাপ না থাকলেও কিছুটা সহযোগীতার প্রত্যাশা আর আপদ বিপদের চোখ রাঙানির কারণে আব্দুল্লাহ কাঁধে বাদামের ডিশ তুলে নিয়েছে। এই ব্যবসা আব্দুল্লার লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেনা?
জানতে চাইলে ম্লাণ হেসে দুদিকেই মাথা নাড়লো সে। বলল, ইস্কুল খুললেতো যাইমু। আর রাইতেতো বাসায় পড়তাছি। আব্দুল্লাহ জানায়, সে লেখাপড়া করতে চায়। অনেক বড় হয়ে দেশের সেবা করতে চায়। তবে তার মা বাবা আর ভাইবোনের মুখের হাসিও দেখতে চায়। আর তাই এ বয়সেই কাঁধে তুলে নিয়েছে সংসারের জোয়াল।
-কাম করতে করতে রোজগার আর লেহাপড়া চালাই যামু ইনশাল্লাহ। স্বাভাবিক শিশু জীবন তার হারিয়ে যাচ্ছে দারিদ্রের চাপে, নেই খেলাধুলা হাসি গান আর তামাশা।
কিন্তু তবু জীবনে সুখের সুর্য খুঁজে বের করতে দৃঢ়প্রত্যয়ী বলেই মনো হলো আব্দুল্লাহকে।




এনামুল কবীর



