সবকিছু স্বাভাবিক। আন্দোলন নেই। শিক্ষার্থীরা হলে ফিরেছে। শিক্ষামন্ত্রীর ওপর ভরসা রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। এরইমধ্যে এলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডে। একত্রিশ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। পালনও হলো সাড়ম্বরে।
ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন একমাসের অধিক সময়ের পর ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করলেন। প্রাণখুলে কথা বলেছেন। বললেন, ‘দুঃস্বপ্ন ছিল সেটি কেটে গেছে। সত্য ও ন্যায় বিজয়ী হয়েছে; মিথ্যা পরাভূত হয়েছে।’ ভিসির বক্তব্যেই অনেক কিছুই পরিষ্কার। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যেতে চান উন্নতির শিখরে। হাতে তার তিনবছর সময়। দুইবছরের মধ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ক্যাম্পাস গড়তে চান। ছাত্রীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে চান। গবেষণায় শাবিকে দেশসেরা প্রতিষ্ঠান করতে চান।ক্যাম্পাসে র্যাগিং বন্ধ করেছেন। যৌন হয়রানিও বন্ধ। মাদকের অভয়ারণ্য থাকা ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত করেছেন। দীর্ঘ বক্তব্যে ভিসি নজর কেড়েছেন সবার। দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য সিলেটবাসীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ডে’তে একটি অপূর্ণতা থেকেই গেল এবার। প্রতিবছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি পালন হয় বিশ্ববিদ্যালয় ডে। গত শুক্রবার যখন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ক্যম্পাস সফর করেন তখন, জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ডে পালন করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সবাইকে এতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু গতকাল সেটি হলো না। এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ডে সার্বজনীনভাবে পালন হয়নি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এসে শরীক হলেন না অনুষ্ঠানে। তারা ক্যাম্পাসেই ছিলেন। হলে হলে অবস্থান করেছেন। কিন্তু বাইরে বের হননি। হল খুলেছে গতকাল। আজ থেকে ভার্চ্যুয়ালি ক্লাস শুরু। সরকারের নির্দেশনা পেলে ফের খুলে দেয়া হবে ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থী মুখর হয়ে উঠবে পরিবেশ। প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে ক্যাম্পাসে আস্থা ফিরবে কি? ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমদের গতকালের বক্তৃতায় ইঙ্গিত মিলেছে তিনি আগামী তিনবছর ক্যাম্পাসে থাকছেন। যেসব কাজ হাতে নিয়েছেন সেগুলো পূরণ করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তবে এখনো তার প্রতি আস্থাশীল হয়ে উঠতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। ভয় কাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।




ওয়েছ খছরু



