সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন

বাতাসে বহিছে প্রেম নয়নে লাগিল নেশা

  • প্রকাশের সময় : ১৪/০২/২০২২ ০৮:৪০:৩১
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
14

বসন্তের আগমনে কোকিল গান গায়। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুল ফুলের মেলা। পহেলা ফাল্গুনে ফাগুণের হাওয়া নগরে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে। নগরীর ফুলের দোকানগুলো সাজানো ফুলে ফুলে। ফুলে ফুলে তৈরি ফুলের মুকুট, কিশোরী তরুনীর খোপায় তারার ফুল। বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সাথে তরুণ হৃদয়েও লাগে প্রেমের দোলা। এসব ফুল সংগ্রহ করতে ভিড় করে তরুনের দল। বসন্তের এই দিনে ভালোবাসার মানুষের খোঁপায় গেথে দেয় নিজ হাতে ফুল। খুব কাছ থেকে দেখে বাসন্তী রঙের শাড়ী পড়া প্রিয়তমাকে। প্রিয়তমা অনুভব করে প্রিয়তমের ভালোবাসা।

পিছনের সব বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্তের পহেলা দিন আসে রোমাঞ্চনিয়ভাবে। বাঙালির সংস্কৃতি আর বাংলার কৃষ্টির সঙ্গে বসন্ত এক মায়ায় মিলবন্ধন। বাঙালি চেতনার উৎপত্তি বসন্ত। বাঙালি মাতৃভাষার জন্য বায়ান্নের ফেব্রুয়ারিকে বেছে নিয়েছিলেন।

ফেব্রুয়ারির ফাল্গুনের দিনগুলোতে রফিক সালাম জব্বার শফিউলরা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন। এই ফাল্গুনের ফেব্রুয়ারিতে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা হয়। কবি লেখক ও কথাসাহিত্যিকের মিলন মেলা হয় এই বইমেলাকে ঘিরে। বছরধরে যে শক্তিগুলো অর্জন করে এই ফাল্গুনের একুশে বইমেলাতে উজাড় করে দেয়।

এই সময়ে সাহিত্য পাঠক তাদের প্রিয় কবি লেখকদের স্পর্শতা লাভ করে। কিশোর কিশোরীর তনুমনগুলো রোমাঞ্চনায় জেগে উঠে। শহর ও গ্রামের কৃষ্ণচূড়ার ডালগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠে। এই লাল ফুলগুলো মনে করিয়ে দেয় প্রিয়তম অথবা প্রিয়তমার ছবি। খররৌদ্র তাপে দিনের দক্ষিণা বাতাস আর রাতের পূর্ণিমার আলো ভালো লাগা হৃদয়ে জাগিয়ে তুলে ভালোবাসা। বসন্তের ফাল্গুন প্রাণে প্রাণে দোলা দেয়। এক নীরব নিবিড় দোলা। প্রেমিকার মন বুঝার কবির খেলা। বসন্তের সাথে কবিতার মহামিলন। ভালোবাসা, শিমুলফুল, দখিন হাওয়া, ভোরের মিষ্টি পাখির গান কবিতার শব্দের সাথে নিবিড় সম্পর্ক।

বসন্তে ফাল্গুন আগমনে কবির কবিতায় মগ্ন হওয়ার প্রেম। কবি লিখেন কবিতা, লিখেন ফাগুনের গান। মনে ভেতর বসন্তের কবিতার চরণ চারণ করেন। বসন্ত আছে বলেই নিসর্গে নির্মেঘ রোদ্দুর জেগে ওঠে, পরম বাতাসের পরশে সকাল সন্ধ্যায় দেহে লাগে মিষ্টি দোলা। ফাল্গুনের কবিতায় জীবনের বিষাদ, যাতনা, দুঃখ জরা, চিত্র ভুলে আনন্দের এক কাতারে সাঁতার কাটে, হাত নেড়ে সুখের আহ্বান জানায়, কবিতা হয় ইতিবাচক মনোভাব।

এ যেন মন ভাঙ্গা মানুষকে সামনে নেওয়ার ফাল্গুনের বসন্তের গহীন সুর। শব্দ চয়নে অসাধারণ সুর বজায় রেখে বসন্তের ডাক, প্রাণ সঞ্চারী দোলার কথা। বসন্ত কেবল রূপের গুনে মুগ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়না, রক্তরাঙা পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার প্রাণে প্রাণে রঙ ছড়িয়ে রাঙিয়ে যায়। কোকিলে প্রাণে প্রেমের ঢেউ শোভিত হয়ে ফুটে উঠে। কোকিলের কুহুকুহু সুর প্রেমিকার ভালোবাসা স্পর্শতায় আহ্বান করে প্রিয়তমাকে কাছে আসার।

কবি আপন কবিতায় প্রেমের উৎসরণ ঘটিয়ে বসন্তকে নিজের প্রেমে প্রকাশ করেন। বাংলা সাহিত্য বসন্তকে খুব ভালোবেসেছেন। বসন্তের মাঝে রক্তিম ফুলে জাগরণের হাতছানি দেখে ব্যস্ত দিনে বাসন্তীরাঙা শাড়ির সাজে নারীকে চিত্রিত করেন। বসন্ত তরুন তরুনী আর কিশোর কিশোরীর মনে শিহরণ তোলে। ফাগুনের আগুন লাগে বনে। রূপ লাবণ্যে জেগে উঠে প্রকৃতি। গাছের পাতা আর ফুলে আলোর নাচন ফুটে কোকিলের কুহুতানে। জানিয়ে দেয় আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। বাঙালি বসন্তকে জড়িয়ে রাখেন হৃদয়ের খুব কাছে। বসন্তে মেতে উঠেন নানা আনন্দ উৎসবে। এসকল বসন্তের উৎসবে আলো ছড়ায় বসন্তের গান ও কবিতায়।

এবারের ফাল্গুনের দিনেই ভালোবাসা দিবস। প্রেম মমত্ব ভালোলাগা ভালোবাসা, বোনের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসা, সন্তানের প্রতি পিতামাতার ভালোবাসা, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসা, প্রিয়তমার প্রতি প্রিয়তমের ভালোবাসা, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এক সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টিকরে। বাড়ির আঙ্গিনার বসন্তের দিনের বেলী গন্ধরাজ ফুলের সুগন্ধে ভ্রমরে গান আর কুকিলের কুহুকুহু ভোরের ঘুম ভেঙ্গে কবির কবিতা লেখার সময় এই ফাল্গুনেই মত্ব। এই ঋতুরাজ বসন্তে মেয়েরা বাসন্তী সাজে। প্রকৃতি সেই সাজে প্রেমোম্মুখ হয়। মনেতে ফাগুনের আনন্দে রঙ্গিন রঙ ছড়িয়ে দেয়। কবির কবিতায় ভালোবাসা প্রেম ভরিয়ে তুলে প্রিয়তমার জন্য।

তখন মনে হয় কবির একটি কবিতার শব্দ একজন প্রিয়তমা। একটি ঋতু একটি বসন্ত। চারদিকে প্রকৃতির প্রেমে কবির কবিতা পলাশ শিমূল আর কৃষ্ণচূড়ায় মিশে যায়। এই ফাল্গুনের হাওয়া দেহে আলিঙ্গন করে। কবির কবিতায় রূপ রঙে সাজে বাংলাদেশ। এই সময়ে বাংলাদেশের প্রকৃতিও সাজে রাজকীয় সাজে। শীতকালে ঝড়ে পড়া পাতার ফাকে নতুন পাতা গজিয়ে সবুজ পাতা ছেয়ে যায় গাছগুলো।

পাখিরাও কবিদের মতো মনের আনন্দে নিজেদের কুহুকুহু বাণীগুলো মানুষের হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয়। লাল ফুল, হলুদ ফুল, গোলাপী, সাদাফুলসহ হাজার রঙের ফুল ফুটে এই বসন্তে। ভ্রমর মনের আনন্দে গুঞ্জন করতে করতে সুগন্ধির পুুষ্পে ও আমের মুকুলের মধুপানের মত্ত হয়। সবাইকে ফাল্গুনের বাসন্তী শুভেচ্ছা।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।


সিলেট প্রতিদিন / এসএ


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স