এনামুল কবীর :: অবশেষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি শুক্রবার সিলেট আসবেন। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিয়ম সভায় মিলিত হবেন। শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতেই মূলতঃ তার সিলেট আগমন।
গত ১৩ জানুয়ারি রাতে শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ তিনদফা দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্থরের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। ১৬ জানুয়ারি রোববার ক্যাম্পাসে ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে আইআইসিটি ভবনে অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। তাকে মুক্ত করতে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করে। লাঠিচার্জ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপসহ টিয়ারশেলও নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।
পুলিশের এই হামলার ঘটনা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঘি ঢেলে দেয়। তারা ভিসির বাসভবন ঘেরাও করেন। তাদের দাবি তখন পরিণত হয়েছে এক দফায়। ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে।
কিন্তু ভিসি পদত্যাগ না করায় ১৯ জানুয়ারি দুপুর থেকে শাবির আন্দোলনরতদের মধ্য থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন। নড়ে উঠে সারাদেশ। অনশনরত শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে শুরু করলেও তারা অনশন ভাঙেননি। পরে আরও ৪ শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন। সারাদেশের দৃষ্টি তখন শাবি ক্যাম্পাসের দিকে।
ভিসির পদত্যাগের দাবি উঠে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এমনকি জাতীয় সংসদেও। এরমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনরতদের সাথে কথা বলতে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। এরও সমালোচনা হয়েছে জাতীয় সংসদে। শিক্ষামন্ত্রীর ডাবল মাস্ক পরে শাবি যাওযা উচিৎ ছিল বলে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির দুই সাংসদ।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে ২৬ জানুয়ারি সস্ত্রীক ক্যাম্পাসে আসেন দেশ বরেণ্য সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। সরকার ভিসিকে সরিয়ে দিবেন- এমন আশ্বাস তিনি পেয়ে এসেছেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন এবং অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান।
এরপর গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা মিছিল, আল্পনা আঁকা, চাষাভূষার টং বাসানো, খেলাধুলাসহ অন্যান্যভাবে তাদের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এমন প্রেক্ষাপটে সিলেট আসছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এমন খবর চাউর হওয়ার পর থেকে সবাই অধির আগ্রহে অপেক্ষায়, কি হবে আলোচনার ফল? সরকার ছাড় দেবে? ভিসিকে সরিয়ে নেয়া হবে? আন্দোলনকারীরা সফল হবেন? ক্যাম্পাস আবার স্বাভাবিক হবে? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন উঠছে সচেতন মহলে।
বিষয়টি নিয়ে শাবির আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ ্হয় সিলেট প্রতিদিনের। তাদের মুখপাত্র নাফিসা আঞ্জুম ইমু বলেন, ভিসির পদত্যাগ প্রশ্নে ‘যদি’র কোন অপশন নেই। আমাদের আন্দোলন তার পদত্যাগের দাবিতে। এখানে আর কোন ‘যদি’ নেই। আমরা সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী।
আন্দোলনকারী আরও একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের একদফা দাবি আদায় ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।
আন্দোলনের ফল হিসাবে ইতিপূর্বে একজন প্রভোস্ট, ছাত্র উপদেষ্টা এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার একজন প্রক্টরও পদত্যাগ করেছেন। তাদের কাউকে দেয়া হয়েছে অব্যাহতি, কেউবা স্বেচ্ছায় চলে গেছেন। এগুলো যে আন্দোলনেরই ফল, এতে কোন সন্দেহ নেই।
শিক্ষামন্ত্রীর সিলেট সফরের পর ভিসির ব্যাপারেও একটা সিদ্ধান্ত আসবে বলেই মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।




এনামুল কবীর



