কোচিং সেন্টার থেকে অস্ত্রের মুখে অপহৃত শিক্ষক কাজী আজহারুল ইসলামকে (২৭) গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে গেছে অপহরণকারীরা। অপহরণের প্রায় দু’দিন পর গতরাতে সিলেট শহরের শিবগঞ্জের ‘নিউক্লিয়াস কোচিং সেন্টার’-এর সামনে তাঁকে ফেলে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে সিলেটের সোবহানীঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।
হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কাজী আজহারুল ইসলামকে ইবনে সিনা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। তিনি বর্তমানে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডাঃ চৌধুরী ফয়জুর রবের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ক্রমাগত শারীরিক প্রহার ও নির্যাতনের কারণে তাঁর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হলেও বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা আরও জানান, আজহারুলের মুখমণ্ডল, বুক, পিঠ এবং হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী ও ভোঁতা বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের নানা স্থানে ত্বকের নিচে রক্ত জমে ব্যাপক কালশিটে দাগের সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্যাতনকালীন নাক ও মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে।
পারিবারিক ও কোচিং সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় নিউক্লিয়াস কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেওয়ার সময় একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাকুর রহমান এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমেদের নেতৃত্বে সশস্ত্র ক্যাডাররা এই অপহরণে অংশ নেয়।
ঘটনার পর শিক্ষক আজহারুলের পিতা কাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর ছেলেকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি পুলিশকে লিখিতভাবে জানানোর পরও তাঁকে উদ্ধারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিতা কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর রাতে হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে ছুটে যাই। আমার ছেলেকে অপরহণকারীরা প্রায় মেরেই ফেলেছিল। পুলিশ সময়মতো পদক্ষেপ নিলে আমার ছেলের ওপর এমন নারকীয় অত্যাচার হতো না। আমরা এখনও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
এদিকে একজন শিক্ষকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা, অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় সিলেটের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।




প্রতিদিন ডেস্ক



