মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন

শিবগঞ্জে কোচিং সেন্টার থেকে অস্ত্রের মুখে শিক্ষক অপহরণ, অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ২ নেতার বিরুদ্ধে

  • প্রকাশের সময় : ২৮/০৮/২০২৩ ২৩:০৮:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের শিক্ষক কাজী আজহারুল ইসলাম, ছবি কোচিং সেন্টার থেকে সংগৃহীত
Share
1

সিলেট মহানগরীর শিবগঞ্জের ‘নিউক্লিয়াস কোচিং সেন্টার’-এর ক্লাসরুম থেকে কাজী আজহারুল ইসলাম নামে এক শিক্ষককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। আজ সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 



 অপহৃত কাজী আজহারুল ইসলাম সিলেটের ‘সার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর সহকারী শিক্ষক এবং শিবগঞ্জের নিউক্লিয়াস কোচিং সেন্টারে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সশস্ত্র এই অপহরণের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মোস্তাকুর রহমান এবং সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমেদ।  


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিউক্লিয়াস কোচিং সেন্টারের পরিচালক জামিল আহমদ সুমন রাত ১০টার দিকে জানান, “ঘটনার সময় প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে ক্লাস চলছিল। হঠাৎ চিৎকার শুনে অফিস রুম থেকে বের হয়ে দেখি ৭-৮ জন সশস্ত্র লোক কোচিং সেন্টারে ঢুকছে। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে মোস্তাকুর রহমান ও নাঈম আহমদকে আমি চিনতে পারি। সন্ত্রাসীরা সরাসরি শ্রেণীকক্ষে ঢুকে শিক্ষক কাজী আজহারুল ইসলামের মাথায় পিস্তল ঠেকায়। এরপর তাঁকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে টেনে-হিঁচড়ে বের করে এনে বাইরে রাখা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। উপস্থিত শিক্ষকরা বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাঁদের গুলি করার হুমকি দেয়।” এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে এই অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। 

 

অপহৃত শিক্ষকের বাবা কাজী নজরুল ইসলাম রাত ১০টা ২০ মিনিটে মুঠোফোনে জানান, “সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে এম সি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি।” ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পরপরই আমি শাহপরাণ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিই এবং ছেলেকে উদ্ধারে পুলিশের সহায়তা চাই। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এম সি কলেজ ছাত্রাবাসে অভিযানে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং উল্টো আমাকে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।”  


এ বিষয়ে শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, শিবগঞ্জের একটি কোচিং সেন্টার থেকে শিক্ষক অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং অপহৃতকে উদ্ধারে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।  


তবে অপহরণের নেতৃত্বে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাকুর রহমান ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।  


একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষে ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষককে অপহরণের এই নজিরবিহীন ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত অপহৃত শিক্ষক কাজী আজহারুল ইসলামকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।


সিলেট প্রতিদিন / এসকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স