সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন

বিশ্বনাথের নুনু মিয়া এখন উগ্রপন্থী হেফাজত নেতা, ফের চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে সক্রিয়

  • প্রকাশের সময় : ২০/০৪/২০২৬ ০৮:৫০:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহিত
Share
8

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

হেফাজতে ইসলামে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনাথ উপজেলার আলোচিত ওলামা লীগ নেতা এস এম নুনু মিয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নুনু মিয়া দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ তিনি আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে আসেন এবং আওয়ামী লীগ ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উগ্রপন্থী হেফাজতে ইসলামে যোগ দেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশে উগ্রপন্থী ইসলামিক সংগঠনগুলোর তৎপরতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। 


আওয়ামী লীগ আমলে নুনু মিয়া ছিলেন ওলামা লীগ, বিশ্বানাথ শাখার যুগ্ম সম্পাদক। সে সময় তার চাচা শফিকুর রহমান চৌধুরী ছিলেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ) আসনের এমপি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। চাচা শফিকুর রহমান চৌধুরীর প্রভাব খাটিয়ে বিশ্বনাথ জুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং নীরিহ লোকজনের জমি দখলের জন্য নুনু মিয়া ব্যাপক পরিচিতি পান। মন্ত্রীর প্রভাবে থানা পুলিশের সঙ্গে নুনু মিয়ার গভীর সখ্যতা থাকায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে কখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। 


আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নুনু মিয়ার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলো একটি মণিপুরি পরিবার। গতকাল এই প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে নির্যাতিত মণিপুরি মুসলিম আঙ্গুর খান জানান, তার ভাই দেলোয়ার খান নুনু মিয়ার দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। গত জানুয়ারিতে নুনু মিয়াসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে দেলোয়ারকে সাক্ষী হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে দেলোয়ার খানের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে, দেলোয়ার যেন নুনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দেয়। আঙ্গুর খান আরও জানান, ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে নুনু মিয়া ও তার সহযোগি গুন্ডারা তার ভাইয়ের ব্যবসা দখল করে নেয়।


আঙ্গুর খান জানান, উগ্রপন্থী হেফাজতে ইসলামে যোগ দিয়ে নুনু মিয়ার সন্ত্রাসী ও দখলবাজি আরো বেড়ে গেছে। তাদের হুমকিতে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে আঙ্গুর খানের পরিবার। এ বিষয়ে নুনু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে দেলোয়ার খানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। নুনু মিয়া দাবি করেন, তিনিই ব্যবসার প্রকৃত মালিক। দেলোয়ার খান কোনো কাগজপত্র ছাড়াই ব্যবসাটি তার কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।


সিলেট প্রতিদিন / জেআর


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স