মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর এলাকার এক প্রবাসী যুবক স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকি ও প্রাণনাশের আশঙ্কার কারণে নিজ পিতার জানাজা ও দাফন-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ কামরান, পিতা মৃত আবুল কাশেম, গ্রামের বাড়ি ঘাঘটিয়া ইউনিয়নের সাদেকপুর এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি কুলাউড়া পৌরসভার নতুনপাড়া এলাকায় প্রায় ৩০ শতক জমি ক্রয় করেন এবং ভবিষ্যতে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন।
কামরানের দাবি, ওই জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে জমি হস্তান্তরের জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনগত প্রতিকার চাইতে আদালতের শরণাপন্ন হন। তবে আদালতে মামলা দায়েরের পর থেকে তার এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৫ জানুয়ারি কয়েকজন ব্যক্তি কামরানের খোঁজে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গেলে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে কামরানের পিতা আবুল কাশেম গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
পিতার অসুস্থতার খবর পেয়ে গত ৭ জানুয়ারি কামরান দেশে ফিরে আসেন। তবে তিনি নিজ বাড়িতে না গিয়ে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়। গত ১৩ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার পিতা মৃত্যুবরণ করেন।
কামরানের ভাষ্যমতে, পিতার মৃত্যুর পর হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সময় তিনি জানতে পারেন যে, তাকে খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে। নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি হাসপাতালের পেছনের পথ দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। ফলে তিনি নিজের পিতার মরদেহের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেননি এবং জানাজা ও দাফন-অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কামরান বলেন, "একজন সন্তানের জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো নিজের বাবার শেষ বিদায়ে উপস্থিত থাকতে না পারা। আমি শুধু নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম।"
কামরানের পরিবার দাবি করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের কথা অনেকেই জানেন। তবে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।




কুলাউড়া সংবাদদাতা



