বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

সিলেটে কুড়িয়ে পাওয়া স্বপ্নার বৌভাত অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশের সময় : ১৪/০৫/২০২৬ ২১:০২:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের ছবি: সিলেট প্রতিদিন।
Share
33

একযুগ আগে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে কুড়িয়ে পাওয়া স্বপ্না আক্তারের বিয়ের পর বৌভাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৪মে) সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় সমাজসেবার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে বৌভাত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


এতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম ও পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) সভানেত্রী সিদরাতুল মুনতাহা, সিলেট জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক আব্দুল রফিক, সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এসএম মোক্তার হোসেন।


সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এসএম মোক্তার হোসেন বলেন, বুধবার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আজকে আমাদের আয়োজনে বৌভাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বৌভাত অনুষ্ঠানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম ও পুনাক সভানেত্রী বর ইমন সরকার ও কনে স্বপ্না আক্তারের জন্য দোয়া করেন ও উপহার তুলে দেন।


এসময় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) সভানেত্রী সিদরাতুল মুনতাহা বলেন, মানুষ হিসেবে সমাজের প্রতি আমাদের সবারই কিছু দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। এই যে মেয়েটি, যার বাবা-মা নেই; তাদের প্রতি এই দায়িত্বটা তো মূলত আমাদেরই। একজন মা হিসেবে এবং আমার নিজেরও একটি মেয়ে থাকায়, আজ যখন এই মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়েছি, তখন তাকে আমার নিজের সন্তানের মতোই মনে হচ্ছে। মা হিসেবে এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।


সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম বলেন, ​এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাদের আর এখানে রাখার বিধান নেই। এই পরিস্থিতিতে একটি এই অনাথ মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ তাকে বিবাহ দেওয়ার (পাত্রস্থ করার) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তিনি বলেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আমরা একটি মহতি উদ্যোগ এবং মানবিক কাজ । কর্তৃপক্ষ যখন এই ভাবনার কথা আমাদের জানিয়েছিলেন, আমরা তখনই একমত হয়েছি চমৎকার উদ্যোগে আমরা তাদের সাথে থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।


এরআগে (১৩ মে) দুপুরে এক রাজকীয় ও আবেগঘন পরিবেশে স্বপ্নার বিয়ে সম্পন্ন হয় সিলেট নগরীর চামেলীবাগ এলাকার ইমন সরকারের সঙ্গে।


সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, স্বপ্নার বাড়ি সিলেটের কোনো এক উপজেলায়। তাকে উদ্ধার করার পর আশ্রয় দেওয়া হয় সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে। পরে তার বাবা-মার খোঁজ মেলেনি। ফলে তাকে আর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেখানেই শুরু হয় তার বেড়ে ওঠা। তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয়। ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষাও পাস করে স্বপ্না। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর পাত্র খোঁজা হয়। পাত্র সিলেটের সন্তান ও পেশায় একজন ইলেকট্রিকের ঠিকাদার। স্বপ্নার বিয়েতে ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর করে রাখা হবে। স্থানীয় এক ব্যক্তি উপহার দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র।


সিলেট প্রতিদিন / আরজে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স