বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

সিলেটে শেষ সময়ে উ ত্ত প্ত ভোটের মাঠ

  • প্রকাশের সময় : ১০/০২/২০২৬ ১৪:৪৯:৩৭
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহিত
Share
12

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহুর্তে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেটের  নির্বাচনী মাঠ। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ‘জোট’ বিএনপি-জমিয়ত এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের  পরষ্পরবিরোধী অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে।


বিভিন্ন অভিযোগ ও আশঙ্কার কথা তুলে ধরে ইতোমধ্যে দুটি সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি। অভিযোগগুলো জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরেও জানানো হয়েছে। সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ দুই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভোট কেনার অভিযোগ তুলে বিএনপি।


সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন- নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কায় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। ধর্ম ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা, শিশু-কিশোরদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার, ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি এবং অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোট কেনারও অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া বিএনপি নেতারা সংখ্যালঘু, নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিক ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ তাদের।


এছাড়া রবিবার সংবাদ সম্মেলন করে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি জামায়াত প্রার্থীর ‘আইন লঙ্ঘন’র বিষয়টি তুলে ধরেন। মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান- সিলেট-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান নির্বাচনী হলফনামায় আর্থিক ও ঋণগত অনেক তথ্য গোপন করেছেন। যা ইলেকশন কমিশন ও জনগণের প্রতি সুস্পষ্ট প্রতারণা। বিএনপির এই নেতা জানান- হাবিবুর রহমান যৌথ মূলধনী কোম্পানির পরিচালক হওয়া সত্ত্বেও তিনি নাম এবং কোম্পানির নামে থাকা বিপুল পরিমাণ ঋণের তথ্য গোপন করেছেন। মোটা অংকের ঋণ যথাযথ সময়ে পরিশোধ করতে না পারায় পুনঃতফসিল করা হয়েছে। 

তিনি ইবনে সিনা পরিচালক এবং আল-কামারা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ার হোল্ডার ও পরিচালক হাওয়া সত্ত্বেও হফলনামায় এসব তথ্য গোপন করেছেন। ইবনে সিনা হাসপাতালের নামে ২৪ কোটি ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৪৮ টাকা ঋণ থাকলেও তিনি সে তথ্য গোপন করেছেন।


তবে বিএনপির করা এসব অভিযোগ সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যাখান করেছে জামায়াত। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার দেখে প্রতিদ্বন্দ্বি দলের নেতারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। হাবিবুর রহমানের কোন ঋণ নেই। তিনি ঋণখেলাপিও নন।


এর আগে জামায়াতের পক্ষ থেকে সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদিরের হলফনামায় উল্লেখিত প্রায় সাড়ে ৮শ কোটি টাকার ঋণের বিষয়টি তুলে ধরে প্রচারণা চালানো হয়। এর জবাবে খন্দকার মুক্তাদির বলেন- গত ১৫-১৬ বছর স্বৈরশাসকের কারণে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেননি। যে কারণে সুদ বেড়ে ব্যাংকের পাওনা ৮শ কোটিতে ঠেকেছে। যেই দুঃসময়ে তিনিসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেননি, ঠিক সেই সময়ে জামায়াতের নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যতা করে ঠিকই ব্যবসা-বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। 


এদিকে, জামায়াতে ইসলামিও নানা আশঙ্কার কথাও লিখিতভাবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে জানান- একটি দলের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আসা বন্ধ করতে না পারায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির নেতারা। সিলেটের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ধরা পড়ছে না। অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী ধরা পড়লেও অবৈধ তদবিরে জামিন পেয়ে যাচ্ছে বলেও জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন। 


অপরদিকে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে অনশনে বসেছেন সিলেট-১ আসনের সিপিবি প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন। তিনি রবিবার সকাল থেকে মহানগরের চৌহাট্টাস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই অনশন শুরু করেছেন। এ প্রার্থীর অভিযোগ- আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দেখিয়ে তাঁর নির্বাচনী বিলবোর্ড অপসারণ করা হলেও অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এ বিধি প্রয়োগ করা হচ্ছে না। এছাড়া  বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছে ফেস্টুন লাগানো, নির্ধারিত সাইজ অমান্য করা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পোস্টার লাগানোর মতো অনিয়ম করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত এই অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিপিবি প্রার্থী।

এছাড়া সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রযুক্তিবীদ মইনুল বাকরও রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’ বলে দাবি করেছেন।


সিলেট প্রতিদিন / এসআর


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি