একসময় ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। সারাদেশের জন্য কাজ করেছেন। কাজ করেছেন নিজের নির্বাচনী এলাকা সিলেট-১ আসনের জন্যও। প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে সাবেক অর্থমন্ত্রী, ভাষা সৈনিক এবং দেশ বরেণ্য বুদ্ধিজীবী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের হাতধরে।সিলেটবাসীর জন্য তাঁর অনেক স্বপ্ন ইতিপূর্বে বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। কিন্তু তবু এখনো কিছু স্বপ্ন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় তিনি। এমনকি হাসপাতালের বেডে শুয়েও।
নাহ! সেটি তাঁর ব্যাক্তিগত বা পারিবারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন স্বপ্ন নয়। বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে সিলেটবাসীর স্বার্থ। সিলেটের প্রতিটি নাগরিকই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে উপকৃত হবেন। আর তা হচ্ছে, একটি কেন্দ্রীয় পার্ক।
সিলেটের ফুসফুস হিসাবে পরিচিত বন্দরবাজারের কেন্দ্রীয় কারগারের জায়গায় একটি কেন্দ্রীয় পার্ক নির্মাণের স্বপ্ন সাবেক এই সফল অর্থমন্ত্রীর|অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন খুব। সেখান থেকে আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে এখনো হাসপাতালেই আছেন তিনি। বেডে শুয়ে শুয়েই সিলেটের জন্য যা করতে পেরেছেন তা নিয়ে যেমন ভাবছেন, তেমনি ভাবছেন নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো নিয়েও। আর সেই স্বপ্নগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে, একটি কেন্দ্রীয় পার্ক প্রতিষ্ঠা।
সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজার সংলগ্ন ধোপাদীঘির পাড়ে বৃটিশ আমলে তৈরি হয়েছিল সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই কারাগারটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে শহরতলীর বাদাঘাট এলাকায়। ২০১৬ সালে সেটি পরিদর্শনে গিয়ে সাবেক এ অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, নগরীর অভ্যন্তরে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটিকে কেন্দ্রীয় পার্ক হিসাবে রূপান্তর করতে চান তিনি।এমনিতে সিলেট মহানগরীর মানুষের চিত্তবিনোদনের সুযোগ সুবিধা খুবই সীমিত। নেই বললেই চলে। এই চিন্তাভাবনা থেকে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সেটিকে পার্কে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখতেন। এতে নগরবাসীর চিত্তবিনোদনের যেমন সুযোগ হতো তেমনি সেই পার্কটি একসময় সিলেট নগীর ফুসফুস হিসাবেও পরিচিত হয়ে উঠতো।
বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি মো. আব্দুর রহমান জামিল, সিসিক'র ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসএম শওকত আমিন তৌহিদসহ আরও কয়েকজন তাঁকে দেখতে গেলে আবারও সাবেক অর্থমন্ত্রী তাঁর স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেন।
সিলেট ফিরতে উদগ্রীব জানিয়ে এএমএ মুহিত জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ সফর থেকে দেশে ফিরে এলে তাঁকে তিনি তাঁর এই স্বপ্নের কথা জানাবেন।
একসময় সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসাবে দেশের জন্য তিনি কাজ করেছেন। কাজ করেছেন অর্থমন্ত্রী হিসাবেও। সারাজীবন যার চিন্তাভাবনায় ছিল দেশ এবং দেশের মানুষের উন্নয়ন, মৃত্যুশয্যায়ও তিনি যে তেমন চিন্তাই করবেন- এমনটা খুবই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ক্যাবিনেটের সাবেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং দেশের বর্ষিয়ান একজন রাজনীতিবিদের আহ্বানে সাড়া দিবেন, বন্দীদের দীর্ঘশ্বাসে ভরা ধোপাদীঘির পাড়ের পুরানো কারাগারের জায়গায় দলবেঁধে নারী পুরুষ শিশুরা আসবেন প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে, আবার ঘরে ফিরবেন একবুক প্রশান্তি নিয়ে, সাবেক অর্থমন্ত্রীর মতো এমন প্রত্যাশা সিলেটের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



