২০০৩ সালে চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর শফিউদ্দিন হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শিপন হাওলাদার ও নাইমুল ইসলাম ঈমনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ রায় কার্যকর করা হলো। ফাঁসি কার্যকরের দায়িত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জল্লাদ নাছির উদ্দিন ও সিরাজ মিয়া।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ।
কারা বিধি অনুযায়ী আসামিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফাঁসির রায় কার্যকর করার আগে কারাগারে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিউলি রহমান তিন্নি ও কারা কর্তৃপক্ষ। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শিপন হাওলাদার (বন্দি নং ৫০৭৯/এ) চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর দক্ষিণ আমবাগানের মৃত ইউনুছ হাওলাদারের ছেলে।
তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নন্দনসার গ্রামে। অপর আসামি নাইমুল ইসলাম ঈমন (বন্দি নং ৫৭৩৮/এ) চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার ডেবারপাড় এলাকার ঈদুন মিয়া সরকারের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর পূর্ব পাড়া এলাকায়। নিহত শফি উদ্দিন বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী-১ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০০৩ সালের ১৪ জুন চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর উত্তর আমবাগান রেলওয়ে কোয়ার্টারের ৩৬/এ বাসায় বাসায় ঢুকে তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে ঘাতকরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহমুদা বেগম বাদী হয়ে খুলশী থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০০৪ সালের ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে এ হত্যা মামলায় দুই ঘাতক শিপন ও ঈমনকে ফাঁসি, সাত আসামিকে যাবজ্জীবন এবং চারজনকে খালাস দেন।
শফিউদ্দিন স্থানীয় রেলওয়ে আমবাগান এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. আসাদুর রহমান বলেন, সাজার বিরুদ্ধে আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালে উচ্চ আদালত রিভিউ আবেদনও খারিজ করে দেয়।
সর্বশেষ চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করা হলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে কারাবিধি অনুসারে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই আসামি ২০০৪ সালেই গ্রেপ্তার হন। প্রায় তিন বছর আগে তাদেরকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় বলে জানান জেলার।




প্রতিদিন ডেস্ক



