শুরুতে বেশ ঢাকঢোল পেটানো হয়েছিল। দারুণ স্লোগানে নগরবাসীসহ সিলেটের সচেতন মহলের ব্যাপক প্রশংসাও পেয়েছিলেন তারা।
'শেখ হাসিনার দর্শন, সিলেটের উন্নয়ন'- স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা নগর এক্সপ্রেস এখন সেই স্লোগান মুছে ফেলেছে। এর পরিবর্তে বাসগুলোর গায়ে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন। এনিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা।
প্রতিদিন সিলেট মহানগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগর পরিবহনের বাসগুলো। তারা যদিও যাত্রী পরিবহন করছেন, তাবে প্রায়ই এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠছে সেবার মান নিয়েও।
এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা স্লোগান মুছে ফেলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন।
আজ বুধবার ( ৯ মার্চ ) তার ফেসবুক টাইমলাইনে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তুলেন।
বাসের একাধিক ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। লিখেছেন নগর পরিবহন শুরুর সময়কার কথা। তখন বাসগুলোর গায়ে লেখা ছিল ‘শেখ হাসিনার দর্শন, সিলেটের উন্নয়ন’। এখন তা মুছে ফেলা হয়েছে। এর পরিবর্তে বাসগুলোর গায়ে শোভা পাচ্ছে বিজ্ঞাপন।
আর সেদিকে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন অধ্যাপক জাকির।
তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, নগর এক্সপ্রেস যখন চালু হলো, তখন প্রতিটি গাড়িতে লেখা ছিল ‘শেখ হাসিনার দর্শন, সিলেটের উন্নয়ন’।
এরপর তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, বর্তমান বাস্তবতায় বিজ্ঞাপনের নামে নতুন করে যা হচ্ছে তা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত নগরবাসী তা জানতে চায়।’
অধ্যাপক জাকিরের এমন প্রশ্নে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এখন রীতিমতো সরগরম। সচেনতন নাগরিকবৃন্দ তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। একই প্রশ্ন তুলছেন তারাও। কেউ কেউ অবশ্য আরেকটু এগিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম বিষয়টির নিন্দা জানিয়েছেন। এরপর প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়ে লেখেন, তীব্র নিন্দা জানাই। একই সাথে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণার অনুরোধ রইলো।
বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।
তবে প্যানেল মেয়র-১ ও সিসিক কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন বলেন, এটি নিয়ে সিটি করপোরেশনে কোন আলোচনা হয়নি। তাছাড়া বাস মালিকরা সিটি করপোরেশনের কাছে দয়াবদ্ধও নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আসলে আমি কিছু বলতেও পারছিনা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আজিজুর রহমানও প্রায় একই উত্তর দিয়েছেন।
তবে নগর এক্সপ্রেস বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও সিসিক কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরানের মোবাইলে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



