এনামুল কবীর :: সিলেট-তামাবিল সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ব্যাটারিচালিত রিকশা- অটোরিকশা। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চললেও কিছুতেই তাদের দাপট নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা। এতে রাজপথে যেমন প্রায়ই ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে, তেমনি নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অন্যান্য যানবাহনের যাত্রী, সাধারণ পথচারী ও চালকদের।
গত সোমবার সরজমিনে সিলেট তামাবিল সড়কের ইসলামপুর ( মেজরটিলা ), শাহপরাণ, পীরেরবাজার, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি এলাকা ঘুরে দেখা যায় রাজপথে ব্যাটারিচালিত রিকশা অটোরিকশার ছড়াছড়ি। নির্ভয়ে বেশ দাপটের সাথেই চলছে এসব যানবাহন। তারা ইচ্ছে মতো যাত্রী পরিবহণ করছেন।
আলপকালে মনে হলো রাজপথে এ ধরণের যানবাহন চলাচলে সরকারের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সে ব্যাপারে তাদের কেউ কিছু জানেনইনা! আর কেউ কেউ জানলেও নানা যুক্তির মারপ্যাঁচে নিজেদের অবস্থানকেই সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিযেছেন, সিলেট তামাবিল সড়কের ইসলামপুর ( মেজরটিলা ) থেকে শাহপরাণ, পীরেরবাজার এবং গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন হাজারখানেক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। এসব যানবাহনে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার পড়ুয়ারা যেমন যাতায়াত করেন, তেমনি যাতায়াত করেন বয়স্করাও। তাছাড়া বিভিন্ন ধরণের পণ্য, বিশেষ করে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে কাঁচামাল পরিবহনের কাজেও অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এসব যানবাহন চলাচল করছে।
রাজপথে দাপটে এসব যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও যানজট লাগছে। এতে যেমন প্রচুর সময় নষ্ট হচ্ছে তেমনি আবার ছোটোখাটো অনেক দুর্ঘটনাও ঘটছে। ঘটছে বড় দুর্ঘটনাও।
সিলেট তামাবিল সড়কে যত দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে তার অধিকাংশের জন্যই দায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা- বললেন পীরেরবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হক (৪৫)।
তিনিসহ আরও একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, মূলত হাইওয়ে পুলিশের নজরদারীর অভাবেই রাস্তায় এজাতীয় যানবাহনের দাপট দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।
এই রাস্তায় নিয়মিত ট্রাক চালান আবুল হাসান (৩৫)। তিনি বলেন, এদের যন্ত্রনায় ঠিকমতো গাড়ি টানা যায়না। অন্তত ঘন্টাখানেক অতিরিক্ত সময় লাগে কেবল এদের কারণে। হঠাৎ তারা সামনে এসে পড়ে। এতে আমরা গতিহীন হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় ধাক্কা লেগে প্রাণহানীর মতো ঘটনাও ঘটছে। এ ব্যাপারে তিনিও হাইওয়ে পুলিশকে দায়ী করেন।
কিছুদিন আগে এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট সার্কেলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র সিলেট প্রতিদিনের সাথে আলাপকালে জানিয়েছিল, এ ব্যাপারে তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায়ই অভিযান চালিয়ে তারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশাকে মূল রাস্তা থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন, আটকও করছেন। আগামীতে লোকবল বৃদ্ধির পর এ ব্যাপারে আগামীতে লোকবল বৃদ্ধির পর আরো বেশী নজরদারি চালানো সম্ভব হবে বলেও আশ্বাস দেয় সূত্রটি।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে এবং এ ব্যাপারে আমরা কাজও করছি। তবে সিলেট ঢাকা মহাসড়ক আর সিলেট তামাবিল মহাসড়ক মিলিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের থানা ভবনের কাজ চলমান থাকায় আবাসনের ক্ষেত্রেও সমস্যা আছে। শহর থেকে গিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। থানা ভবনের কাজ ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। এরপর এ ব্যাপারে অভিযান বা নজরদারী আরও জোরদার করা সম্ভব।




এনামুল কবীর



