রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

সিলেটে শব্দদূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন

  • প্রকাশের সময় : ০৩/০৩/২০২২ ০৭:২০:০৪
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
9

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম: সিলেটে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানও বদলে গেছে, উন্নত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিলেট নগরীর দূষণের মাত্রা। এর মধ্যে শব্দদূষণ অন্যতম। শব্দদূষণের জন্য নগরীতে বসবাস করা একেবারে দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শব্দদূষণের কারণে আমাদের মানসিক এবং শারীরিক ব্যত্যয় ঘটছে। প্রাপ্ত বয়স্কদের কানে পর্যাপ্ত আবরণ থাকায় শব্দ দূষণের আঘাত একটু সময় নিয়ে করলেও শিশুদের ক্ষেত্রে এই আঘাত খুবই তীব্র। তবে দুটি ক্ষেত্রেই শব্দদূষণের প্রভাব ভয়াবহ।

জানা যায়, শব্দদুষণের মাত্রা গ্রামাঞ্চল থেকে শহরেই বেশি। যানবাহনের আধিপত্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিক মাইকের ব্যবহার, সামাজিক অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমে উচ্চস্বরে গান বাজানো শব্দদূষণের অন্যতম কারণ।

সকালে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার পথে, দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এবং বিকালে অফিস ছুটির পর শহরের মানুষের কানের পাশে তীব্র চাপের অনুভব হয়। আবার এর বাইরেও চাপ অনুভূত হওয়ার আশংকা থাকে। রাস্তায় পাশে সভা-সমাবেশ, কিংবা বাসার ছাদে গানবাজনা করার কারণে শব্দদূষণ হয়ে থাকে।

স্কুল, কলেজ কিংবা হাসপাতালের আশেপাশে হর্ন বাজানো নিষেধ থাকলেও তা মানছেন না অনেকেই। শব্দদূষণকে স্বাস্থ্যের জন্য নীরব ঘাতক জানা থাকলেও তাতে সাড়া দিচ্ছে না কেউই। বরং স্কুল ছুটির সময় কিংবা হাসপাতাল এলাকায় যদি যানজট লেগে যায়, তাহলে মাত্রাতিরিক্ত হর্নের আওয়াজে পরিবেশ হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বসতি এলাকায় শব্দের মাত্রা দিনের বেলা ৫৫ ডিবি ও রাতে ৪৫ ডিবি হওয়া উচিত। বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৬৫ ডিবি, রাতে ৫৫ ডিবি, শিল্পাঞ্চলে দিনে ৭৫ ডিবি, রাতে ৬৫ ডিবির মধ্যে শব্দমাত্রা থাকা উচিত। হাসপাতালের আশেপাশে, সাইলেন্ট জোন বা নীরব এলাকায় দিনে ৫০ রাতে ৪০ ডিবি শব্দমাত্রা থাকা উচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব বিষয় শুধু কাগুজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এবিষয়ে এনজেএল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. নূরুল হুদা নাঈম বলেন, শব্দ দূষণ পরিহার করার মাধ্যমে বধিরতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। উচ্চ শব্দ, হেডফোন, গাড়ির হর্ন, কন্সট্রাকশন, আতশবাজি, এবং মেটালিক সং এইগুলা শোনার মাধ্যমে আমরা নিজেরাই নিজেদের শ্রবনের ক্ষতি করি।

তিনি বলেন, এইসব এড়িয়ে চলার মাধ্যমে আমরা শোনার যত্ম করতে পারি। এবং বিশেষ করে হেডফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিক্সটি সিক্সটি রুলস মানার ব্যাপারে জোর দিতে হবে। কারণ বিশেষ করে করোনার সময়ে আমরা সবাই হেডফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। নিজে এবং পরিবারের সবাইকে শ্রবণের এই বিরাট ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স