তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে বাংলাদেশে জিতলেও ছিল না পরিতৃপ্তির হাসি। এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের পালা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে নিজেদের ৩১তম টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথমটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নামছে টাইগাররা। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। টি-স্পোর্টস ও গাজী টিভি খেলাটি সম্প্রচার করবে। ওয়ানডেতে আফগানিস্তান যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখিয়েছে, ২০ ওভারের ক্রিকেটে দলটি আরো বেশি ভয়ঙ্কর। দলটিতে আছেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, মুজিব-উর রহমান ও মোহাম্মদ শেহজাদরা।
টি-টোয়েন্টিতে এটি আফগানদের ১৮তম সিরিজ। আগের ১৭ সিরিজের মধ্যে ১৩টিতেই জিতেছে তারা। একটি সিরিজ ড্র হয় ও তিনটিতে হার। অন্য দিকে বাংলাদেশ ৩০টি সিরিজ খেলে মাত্র নয়টিতে জিতেছে। বাকি ২১ সিরিজেই হার! নিজেদের শেষ সাতটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ-ই জিতেছে আফগানিস্তান। ২০১৭ সালে শেষ তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারে। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব উতরে আসা দলগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান নজর কাড়ে।
তবে বিশ্বকাপ ম্যাচ ছাড়া গত এক বছরে কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেনি দলটি। সর্বশেষ গত মার্চের সিরিজে তারা জিম্বাবুয়েকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। অপর দিকে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নাস্তনাবুদ হওয়ার পর সর্বশেষ মিরপুরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয়। তবে বিশ্বকাপের আগে টাইগাররা জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল। এ ফরম্যাটে দু’দলের অতীত মুখোমুখিতেও এগিয়ে আছে আফগানরা। সর্বমোট ছয় ম্যাচের দেখায় চারটি জয়ে পাল্লা ভারী আফগানিস্তানের। অন্য দিকে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র দু’টিতে।
দু’দলের এটি দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ২০১৮ সালের জুনে ভারতের দেরাদুনে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সাকিবের বাংলাদেশকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করেছিল আসগর আফগানের দল। সিরিজ না খেললেও বাংলাদেশের মাটিতে আফগানরা খেলেছিল তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ২০১৪ সালে মিরপুরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচটি এ সংস্করণে দু’দলের প্রথম দেখা। যে ম্যাচে বাংলাদেশ নয় উইকেটের জয় পায়।
এরপর ২০১৯ সালে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ত্রিদেশীয় সিরিজে মিরপুরের মাঠে সর্বশেষ নবি-রশিদদের মুখোমুখি হয় সাকিব-তামিমরা। সেই ম্যাচটি ২৫ রানে জেতে আফগানরা। একই সিরিজে চট্টগ্রামে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টিতে দেখা হয় দল দু’টির। সাকিবের নেতৃত্বে আফগানিস্তানকে চার উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। তবে মিরপুরের মাটিতে শেষ সুখস্মৃতি আফগানদের হয়েই রইল। সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশ দল ছিল তারুণ্য নির্ভর।
বিপিএলে পারফর্ম করে এবার ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার ঢুকেছেন দলে। ইয়াসির আলী রাব্বি ও শহীদুল ইসলামও দলে আছেন। ফেরানো হয়েছে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমকে। মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শক্তিশালী পেস ইউনিট তো আছেই। ঘরের মাঠে পূর্ণশক্তির বাংলাদেশ, অন্য দিকে আফগানদের অভিজ্ঞ টি-টোয়েন্টির একঝাঁক ফেরিওয়ালা। র্যাংকিংয়েও এগিয়ে আছে আফগানিস্তান। আট নম্বরে আছে নবির দল, নয় নম্বরে অবস্থান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের।
সিরিজটি জিতলে র্যাংকিংয়ে অষ্টমে উঠবে বাংলাদেশ। হারলে নেমে যাবে দশে। এদিকে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ওয়ানডে সিরিজ কেটেছে বেশ বাজেভাবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখিতে নিজের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এবার প্রথম বল থেকেই চার-ছক্কা মারার চেষ্টা করবো। চেষ্টা করবো আমার প্রতি দলের যে আশা, তা পূরণ করার।




স্পোর্টস ডেস্ক



