সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে নিরংকুশ জয়লাভ করেছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধিন আওয়ামী লীগ। আর জয়লাভের পরপরই পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ আর সেনাবাহিনীর চক্রান্ত শুরু হয়। যেকোন মূল্যে আ’লীগকে ক্ষমতার বাইরে রাখাই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে।
একাত্তরের ৩ মার্চ ঢাকায় ছিল পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন। সে লক্ষেই এগুচ্ছিলেন বাংলার মানুষ। পাকিস্তান বঙ্গবন্ধু নেতৃত্ব দিবেন, ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাসের অবসান হবে- এমন একটা স্বপ্ন দেখছিলেন বাংলার নির্যাতিত নিপিড়িত মানুষ।
তবে পাকবাহিনীর গভীর চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে হঠাৎ করে বেতার ভাষনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সেই অধিবেশন বাতিল করেন।
খবরটি শোনামাত্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পূর্বপাকিস্তান বা আজকের বাংলাদেশের আপামর জনগন। তারা রাস্তায় নেমে আসেন। ঢাকা মহনগরীর সব শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। সেদিন ঢাকা স্টেডিয়ামে ছিল বিসিসিপি ও বিশ্ব একাদশের একটি ম্যাচ ছিল। ইয়াহিয়ার ঘোষণায় সেই ম্যাচটি ভন্ডুল হয়ে যায়। দর্শকরা স্টেডিয়াম ছেড়ে মিছিরে যোগ দিয়েছিলেন।
ছাত্র-জনতা হোটেল পূর্বাণীতে জড়ো হয়েছিলেন পরবর্তী কর্মসূচি জানতে। তাদের মুখে প্রতিবাদী স্লোগান ছিল, ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। বিক্ষোভের সেই আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল সারাদেশে।
সেদিন পার্লামেন্টারি পার্টিল বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে ইয়াহিয়ার ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং প্রত্যাখ্যান করেন। এর প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। কর্মসূচির মধ্যে ছিল, পরের দিন ( ২ মার্চ ) ঢাকায় হরতাল, ৩ মার্চ সারাদেশে হরতাল এবং ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসভা।
ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয় অত্যন্ত সফলভাবে। সেদিন ঢাকায় গাড়ি চলেনি। চলেনি রিকশার চাকা। কলকারখানা ছিল প্রায় জনশূণ্য।
ঢাকায় হরতাল চলাকালে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সাথে পুলিশের সাথে কয়েকটা বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পরদিন ৩ মার্চ সারাদেশে সর্বাত্মক হরতালও পালিত হয়েছিল তৎকালীন পত্রপত্রিকা ঘেঁটে জানা গেছে।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



