মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন

রাশিয়া প্রশ্নে একই অবস্থানে ভারত-পাকিস্তান

  • প্রকাশের সময় : ০২/০৩/২০২২ ০৪:৫২:২১
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
8

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে একই অবস্থানে পারমানবিক শক্তিধর দুই দেশ ভারত-পাকিস্তান।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হোক বা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা সবসময়ই দুই মেরুতে থাকে ভারত এবং পাকিস্তান। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে দুটি দেশকে একই অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর কারণ মস্কোর প্রতি পাকিস্তানের আনুগত্য আর ভারতেরও পুরনো মিত্র মস্কো। রযেছে বিপুল প্রতিরক্ষা নির্ভরতাও। ফলে পুতিন সরকারের নিন্দায় যেমন অপারগ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, সে ভাবে নরেন্দ্র মোদীও।

রবিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মামুদ কুরেশি কথা বলেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দমিত্রি কুলেবার সঙ্গে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারত যে ভাষায় রাশিয়া-ইউক্রেন নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ান নেতৃত্বের কাছে যে বার্তা দিয়েছেন, তার সঙ্গে অবিকল মিল রয়েছে পাকিস্তানের বিবৃতির।

মোদীর সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ফোনে কথা হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে সংঘর্ষ বন্ধ করা এবং আলোচনার পথে ফিরে আসার জন্য আবার ডাক দিয়েছেন। যে কোনও শান্তি প্রক্রিয়ায় ভারত যে অংশ নিতে ইচ্ছুক সে কথাও জানিয়েছেন। দুদিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও এই একই কথা জানিয়েছিলেন মোদী।

রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর দিনই মস্কোয় হাজির ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দুদেশের মধ্যে প্রস্তাবিত গ্যাস পাইপলাইনের একটি মেগা প্রকল্প, বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয় এবং আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ইমরান খান রাশিয়া সফরে গিয়েছিল বলে জানানো হয়। সে সময়ই পাকিস্তান বিবৃতি দেয়, ইউক্রেনের বিষয়টিকে কার্যত এড়িয়ে গিয়ে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি খুবই দুঃখজনক। এই সংঘর্ষে কারও হিত হবে না। কোনও সংঘর্ষ হলে উন্নতিশীল দেশগুলির অর্থনীতির উপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে যে কোনও সংঘাতের সমাধান করা যায়।

ভারতের রাশিয়ার উপর নির্ভরতা অনেক আগে থেকেই কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে সখ্যতা আরও বেড়েছে। স্টকহোম পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর সমীক্ষা বলছে, রাশিয়ার মোট অস্ত্র রপ্তানির ২৩ শতাংশ গিয়েছে ভারতে, ২০১৬ থেকে ২০২০-র মধ্যে। একইভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতাও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বেড়েছে। আফগানিস্তানে রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়াইযের জন্য পাকিস্তান ছিল আমেরিকার অন্যতম প্রধান মিত্র। ইমরান খানের সাম্প্রতিক রাশিয়া সফরটিও ছিল প্রায় দু দশক পর। এর আগে শেষবারের মতো ২০১১ সালে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আসিফ আলি জারদারি রাশিয়া গিয়েছিলেন।

রাশিয়া পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও সংযুক্ত করেছে প্রস্তাবিত ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার লম্বা গ্যাস পাইলাইন। ২০১৫ সালে এই প্রকল্পটির আলোচনা শুরু হয়। ২০২১ সালে নতুন করে চুক্তি হয় দুদেশের মধ্যে। প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের এই পাইপলাইন বছরে ১২.৪ বিলিয়ন কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতে সক্ষম।

সূত্রের খবর, রাশিয়া পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে তাদের দেয়া গ্যাস কিছুটা পকিস্তানের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে এই পাইপ লাইনের মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে গ্যাসের প্রশ্নে ইউরোপের নির্ভরতা আরও বাড়বে রাশিয়ার উপর। পাশাপাশি সাংঘাই কো অপারেশনের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার পর রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের সংযোগ বেড়েছে।


সিলেট প্রতিদিন / এমআরএম


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স